ককসবাজারের কলাতলী কটেজ জোনে অভিযান চালিয়ে শতাধিক যৌনকর্মী ও খদ্দেরকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। বুধবার (২৩ অক্টোবর) রাতে দুই ঘন্টাব্যাপী এই অভিযানে বেশ কয়েকটি কটেজ ও রিসোর্ট থেকে তাদের আটক করা হয়।
কক্সবাজার জেলা ডিবির ইন্সপেক্টর আশরাফুজ্জামান এর নেতৃত্বে এ সময় অভিযানে অংশ নেন ইন্সপেক্টর এসএম আতিকুল্লাহ, ইন্সপেক্টর মানুষ বড়ুয়া, এসআই মাসুম খান, এসআই রাজীব কুমার সূত্রধর, এসআই জনি দেবদাস সঙ্গীয় ফোর্স।
এসময় তারা ড্রীম রিসোর্ট , আল কাফি কটেজ, সাজ্জাদ কটেজ, নতুন সবুজ কটেজ, আমির ডিম কটেজ, সি ডাউন কটেজ, ঢাকার বাড়ি-১কটেজ, ঢাকার বাড়ি-২ ও শারমিন কটেজ থেকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে শতাধিক পতিতা ও খদ্দেরকে আটক করা হয়। আটককৃতদের কক্সবাজার সদর মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
জানা গেছে, কলাতলী লাইট হাউজ পাড়া কটেজ জোন এলাকায় আবাসিক কটেজের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক সহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে ওইসব পতিতা ইয়াবা,পতিতা ও খদ্দের আটক করে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও পতিতাবৃত্তির ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর অনেকে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের জড়িয়ে পড়ে অনৈতিক ব্যবসায়।
কটেজ জোন এলাকার একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এধরনের অনৈতিক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আর্থিক ভাবে লাভবান হলেও এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিনদিন অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জেলা গোয়েন্দা শাখা পুলিশের অভিযানে খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশে কটেজগুলো থেকে আরো অন্তত অর্ধশতাধিক পতিতা কৌশলে রংধনু কটেজ সড়ক দিয়ে নিরাপদে সরে পড়ে।
কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার ইন্সপেক্টর আশরাফুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলাতলী লাইট হাউজপাড়া কটেজজোন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে কটেজ থেকে আটক করা হয় পতিতা, খদ্দের ও দালাল। তাদের কক্সবাজার সদর মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মাদক, পতিতাবৃত্তি, ছিনতাইকারীসহ সব ধরনের অপরাধ রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইন্সপেক্টর মানষ বড়ুয়া জানান, আটককৃত পতিতা, দালাল ও খদ্দরের বিরুদ্ধে ডিবির পক্ষ থেকে ইন্সপেক্টর আতিক উল্লাহ ও এসআই রাজিব কুমার সুত্রধর বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।








