টাকার প্রয়োজনে জমি বন্ধক দিয়ে আর ফেরত দিচ্ছে না গ্রহীতা। হঠাৎ জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে আসল মালিকদের বুঝে না দিয়ে উল্টো বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে গরীবের হক মেরে খাওয়ার ফন্দি আটঁছে খুইল্যা মিয়া নামের এক প্রতারক।
জমি ফেরত চাইলে সেনাবাহিনীতে গাড়ি চালক পদে নিয়োজিত ছেলেকে লেলিয়ে দিয়ে অনবরত হুমকি ধমকি দিয়ে এলাকাছাড়া এবং জমি কুক্ষিগত করে রাখার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বাবা এবং ছেলে। দেশের আইনের প্রতি বৃদ্ধ আঙ্গুলী ও ক্ষমতার দাপট দেখিয় অসহায় দরিদ্র দুই ব্যক্তির জমি ফেরত না দিয়ে জবর দখল করে রাখার বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠেছে কক্সবাজারের ইসলামপুরবাসী।
এদিকে বাবার প্রতারণা, ছেলের অব্যাহত হুমকি ধমকিতে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী দুই ব্যক্তি ও তাদের পরিবার।
প্রশাসন, জনপ্রতিনিধির সহযোগিতা চেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে আশ্রয় নিয়েছে ভুক্তভোগী এ দুইজন। তৎমধ্যে লাল মিয়া (৬৫)। পেশায় সামান্য কাঠ মিস্ত্রী তিনি। বাইপাস সার্জারীর কারণে অসুস্থতার কারনে অকর্মণ্য হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। লাল মিয়া ওই ইউনিয়নের জুমনগর এলাকার (৫নং ওয়ার্ড) মৃত আমির হামজার পুত্র।
জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লাল মিয়া জানান, ৪ বছর পূর্বে একই ঠিকানাধীন মৃত আবদুল মজিদের পুত্র খুইল্যা মিয়াকে ২০ শতক রিজার্ভ দখলীয় নাল জমি ৪ বছর মেয়াদে ষোল হাজার টাকায় বন্ধক দেন। মেয়াদ শেষে ১৬ হাজার টাকা নিয়ে লাল মিয়া অভিযুক্ত খুইল্যা মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে খুইল্যা মিয়া টাকা ফেরত দেননি এবং জমির দখলও ছেড়ে দেননি। উল্টো রেগে গিয়ে খুইল্যা মিয়া বিষয়টি তার ছেলে সেনাবাহিনীতে গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত মিজানুর রহমানকে অবগত করেন। পরে মিজান ছুটি নিয়ে বাড়ী এসে লাল মিয়াকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করতে করতে র্যাব দিয়ে ক্রস ফায়ারের হুমকি দেন এবং পুনরায় জমি ফেরত দানের কথা মুখে আনলে তিনিসহ তার পরিবারের অপরাপর সদস্যদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে লাল দালানের ভাত খাওয়ানোর কথা বলেন। উপায়ন্তর না দেখে ভূক্তভোগী লাল মিয়া গেল বছরে খুইল্যা মিয়াকে বিবাদী করে ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদে নালিশ দায়ের করেন। পরিষদ বার বার নোটিশ ইস্যু করা সত্বেও বিবাদী খুইল্যা মিয়া ইউনিয়ন পরিষদে হাজির না হওয়ায় একই বছরের ২৫/৮/ ২০১৯ খ্রি. ভূক্তভোগী লাল মিয়ার পক্ষে গ্রাম আদালত একতরফা রায় প্রদান করে। রায়ে বিবাদীকে বাদীর জমি ছেড়ে দিতে কিংবা অপারগতায় জমির মূল্য বাবদ একলক্ষ টাকা বাদীর বরাবরে প্রদান করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম মুঠোফোনে খুইল্যা মিয়া কর্তৃক লাল মিয়ার জমি জবর দখলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, খুইল্যা মিয়া তার ছেলে সেনাবাহিনীতে গাড়ী চালক হিসেবে কর্মরত মিজানুরকে ব্যবহার করে অত্যন্ত নিরীহ ও অসুস্থতাজনিত শারিরীকভাবে অক্ষম লাল মিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে।
ইসলামপুর ইউনিয়নের শুক্কুর মেম্বার, ইদ্রিচ মেম্বার, নাছির মেম্বার এবং প্যানেল চেয়ারম্যান নুুুুরুল আলম সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলন, খুইল্যা মিয়ার পুত্র মিজানুর রহমান লাল মিয়ার বন্ধকী জমি যাতে ফেরত দিতে না হয় সেজন্য তিনি ও তার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানী ও হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে।
সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন উপস্থিত ইসলামপুর ইউনিয়ন আ’লীগ সাধারন সম্পাদক শাহজাহান চৌধুরী, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক শরীফ কোম্পানী এবং আওয়ামীলীগ নেতা দাদা ফরিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খুইল্যা মিয়ার পুত্র মিজান যখন ছুটি নিয়ে এলাকায় আসেন তখন তার চলাফেরা অনেকটা অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক। তার বলে বলীয়ান হয়ে পিতা খুইল্যা মিয়া পরিবারের অপরাপর সদস্যদের সহায়তায় বন বিভাগের আওতাধীন বেশকিছু সরকারী জমি জবর দখল করে রেখেছে। মিজানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য বলেও তারা মন্তব্য করেন।
অপরদিকে একই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের জুম নগর এলাকার মৃত হাজী মোহাম্মদ হোছাইনের ছেলে ছৈয়দ করিম লিখিত অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, মৃত আবদুল মজিদের ছেলে খুইল্যা মিয়ার বসত ভিটার পাশে সীমানা বেষ্টিত হওয়ায় প্রায় ১০ শতক ভিটে জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। জমি ছেড়ে দিতে বললে খুইল্যা মিয়া ও তার ছেলে মিজানুর রহমান মারধর ও অতি বাড়াবাড়ি করলে লাশ খুঁজে না পাওয়ার হুমকি প্রদান করে।
বাধ্য হয়ে ছৈয়দ করিম বাদী হয়ে ১নং ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর নালিশী মামলা দায়ের করেন যার নং ১৫৬/১৭।
চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে বারবার নোটিশ জারি করলে বিবাদীরা পরিষদে না গিয়ে বিভিন্ন চলচাতুরীর আশ্রয় নেন।পরে একবার গিয়ে তাদের দখলে কোন জমি নাই মর্মে সালিশী বৈঠক থেকে চলে আসে।
এদিকে চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পর্যালোচনা, পরিমাণ এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানতে পারে খুইল্যা মিয়ার দখলে ছৈয়দ করিমের ১০ শতক জমি রয়েছে। সে সময় তদন্ত টিমের প্রধান চেয়ারম্যান আবুল কালাম, মেম্বার নুরুল আলম, আবদু শুক্কুর, জসিম উদ্দিন, তাহেরা বেগমরা খুইল্যা মিয়াকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন করতে বললে তিনি ব্যর্থ হন।
সালিশকারগনের তদন্তে দেখা যায়, বাদীর অভিযোগ সত্য, বিবাদী ছৈয়দ করিম গং ছেলে মিজানুর রহমানকে লেলিয়ে দিয়ে গায়ের জোরে ১০ শতক জমি দখল করে রেখেছে। জমি ফেরত দিতে বললে উল্টো মিথ্যা মামলা, মারধর, গুম করে লাশ গায়েব করার হুমকি দেন বলে জানান ছৈয়দ করিম।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্তদের সাথে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পাওয়া গেলে গুরুত্বসহকারে ছাপানো হবে।এছাড়া বন বিভাগের জমি জবর দখল করে ঘর তোলার অপরাধে খুইল্যা মিয়ার বিরুদ্ধে বন আইনে একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন বলেও জানান তারা। যার নং ৪৮/ ১৯।
ফুলছড়ি রেঞ্জের বিট অফিসার আকরাম মুঠোফোনে খুইল্যা মিয়ার বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।








