সরকারের রেললাইন প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার আগেই গুড়ি গুড়ি ঝড়ের মধ্যে শুক্রবার রাতেই অন্ধকারে স্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে বসতবাড়ি। বাড়ির সদস্যরা বাড়ি থেকে দ্রুত বের হয়ে যাওয়ায় প্রাণে রক্ষা পেলেও ঘরের ভেতরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র রক্ষা করতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। ওই পরিবারটি বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
শুক্রবার দিনগত রাত প্রায় আড়াইটার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুরের সাত নম্বর ওয়ার্ডের বামনকাটায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এগিয়ে গেলে পালিয়ে যায় স্কেভেটর চালক ডালিম। ক্ষতিগ্রস্ত আবদুচ্ছবি ওই এলাকার মৃত আবদুল আজিজের ছেলে।
ক্ষতিগ্রস্ত আবদুচ্ছবির অভিযোগ, গভীর রাতে ঘরের দেয়ালে ধাক্কার আওয়াজ শুনে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে গিয়ে দেখি, স্কেভেটর লাগিয়ে ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তখন ঘরের ভেতরে থাকা আমার স্ত্রী, সন্তান ও দুই ভাতিজা নুরুল আমিন ও নুরুল ইসলামসহ সবাই বের হয়ে আসি। তাতে জানে বেঁচে যাই। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে স্কেভেটরচালক পালিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ধর্ণা দিতে দিতে দিন-মাস-বছর শেষ। টাকা তো দেয়নি, উল্টো ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে এভাবে অমানবিক আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। যারা এমন অমানবিক আচরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইদ্রিছ রানা বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকা তো দেয়নি। সেখানে আবার রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত মানুষজন রেখে বসতবাড়ির ওপর স্কেভেটর চালানোর বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার বলেন, রেলের কাজ চলতে হবে। আবার জনগণকে ক্ষতিপূরণের টাকাও পেতে হবে। কিন্ত রাতের অন্ধকারে কেন ঘর ভাঙবে? এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমি প্রয়োজনীয় সমাধান দেয়ার চেষ্টা করবো।








