কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁহ বাজার থেকে নুর জয় নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে দিবালোকে অপহরণ করার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য (মহিলা মেম্বার) ও তার ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় ভিকটিম আসমির নুর জয়কেও উদ্ধার করা হয়েছে।
অপহৃত জয় ঈদগাঁহ ভোমরিয়া ঘোনা এলাকার হাজী নুরুল আমিনের ছেলে এবং ঈদগাঁহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতন কেজি স্কুলের ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। ধৃতরা হল বর্নিত ইউনিয়নের মাইজ পাড়া এলাকার শফিক আহমদের স্ত্রী মহিলা মেম্বার নুর জাহান প্রকাশ হৃীলা মেম্বার ও ছেলে ছায়েদুর রহমান (২০)।
৩১ জানুয়ারী শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টায় এ ঘটনাটি ঘটেছে বাজারস্থ মেডিকেল সেন্টার নামের একটি বেসরকারী ক্লিনিকের সামনে।
ঘটনার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম নুর জয় তার বড় ভাইয়ের বউকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ঈদগাঁহ মেডিকেল সেন্টারে গেলে পূর্ব শত্রুতার জেরে ধৃত মহিলা মেম্বার ও তার ছেলের নেতৃত্বে আরো ৬/৭ জন অজ্ঞাতনামা দূর্বৃত্ত্ব জয়কে জোর পূর্বক সিএনজিতে তুলে মাইজপাড়া এলাকাস্থ মহিলা মেম্বারের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে জয়ের আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধুদের মাঝে সংবাদটি ছড়িয়ে পড়লে লোকজন ঐ মেম্বারের বাড়িতে যায়। এ সময় তাকে ছাড়িয়ে নিতে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন বলে জানায় জয়ের চাচা যুবলীগ নেতা এনাম রনি।
খবর পেয়ে ঈদগাঁহ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামানের নির্দেশে এসআই আবু বকর ছিদ্দিক, এএসআই নিজাম উদ্দিনসহ একদল সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিকটিম নুর জয়কে উদ্ধার করেন। ভিকটিমের পরিবারের দাবী অনুযায়ী অপহরণে জড়িত সন্দেহে নুর জাহান মেম্বার ও তার ছেলে ছায়েদুল ইসলামকে ধৃত করা হয়। তারা তদন্ত কেন্দ্রের হেফাজতে রয়েছে।
জয়ের অপর আত্মীয় যুবলীগ নেতা রাশেদ উদ্দিন রাশেল জানান, এই জগন্যতম ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঈদগাঁহ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা করলে সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
অভিযোগ রয়েছে উক্ত মহিলা মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় একটি টোকাই বাহিনী গড়ে তুলে। এই বাহিনীর মাধ্যমে ইয়াবা ব্যবসা, মারামারি,জমি দখলসহ হরেক রকমের অপরাধ করে আসছিল। তার গ্রামের বাড়ি সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের হৃীলা ইউনিয়নে হওয়ার সুবাদে তার স্বজনদের মাধ্যমে এলাকায় ইয়াবা এনে দিনরাত বিক্রি করত। তার এ সমস্ত বিস্তর অভিযোগে পরিষদ সংশ্লিষ্ট থেকে শুরু করে স্থানীয় এলাকাবাসীকেও ভাবিয়ে তুলেছে। অপহরণসহ বহু অপকর্মকারীদের ধৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেন এসএসসি ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী।








