নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজারের ঈদগাঁহতে পেঁয়াজের মজুদ নেই

রাতারাতি পেঁয়াজের এমন মূল্য বৃদ্ধিকে অকল্পনীয় ও অবিশ্বাস্য মনে করছেন পেঁয়াজ কিনতে আসা কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁহ বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী আবদুর রশিদ।

তিনি বলেন, গতকালের দাম অনুযায়ী মাত্র ৫ কেজি পেঁয়াজ কেনার পরিকল্পনা নিয়ে বাজারে এসে সেই টাকায় পাচ্ছি ২ কেজি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাজারের পরিস্থিতি এতটা বদলে যাবে, এটা অকল্পনীয়!

এ হোটেল ব্যবসায়ী মনে করেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে যারা কর্তাব্যক্তি আছেন, পেঁয়াজের বাজার সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই নেই। ধারণা থাকলে পেঁয়াজের বাজারের এই অবস্থা হতো না এবং পেঁয়াজের দাম কমবে বলেও মনে হয়না।

ঈদগাঁহ বাজারের খুচরা বিক্রেতা ইসলাম বলেন, কেন কিভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে তা আমরা জানি না। কিন্তু দাম বৃদ্ধির কারণ সবার আগে আমাদেরই ব্যাখ্যা করতে হয়। ক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডায় গিয়ে পৌঁছায়। অথচ দাম বাড়ার পিছনে আমাদের কোনো হাত নেই। আমরা আড়তে যাওয়ার পর জানতে পারি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। কেন পেঁয়াজের দাম বেড়েই চলেছে জানতে চাইলে ঈদগাঁহ কাচা বাজারের আড়তের মালিক আলী বলেন, নানা কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। একে তো দেশে পেঁয়াজের স্টক নেই। অন্যদিকে ভারত থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় সবচেয়ে বেশি অসুবিধা হচ্ছে। নানা হিসাব কষে আড়তদার আলী বলেন, যখন দেশে পেঁয়াজের অর্ধ মৌসুম ছিল তখনও প্রতিদিন ২০ ট্রাক পেঁয়াজ আসতো। আর বিভিন্ন বন্দর ও মোকাম থেকে আসতো কমপক্ষে ১০০ ট্রাক। আর এখন আসে সাকুল্যে ৫ ট্রাক। তাহলে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কেন?

তিনি আরও বলেন, দেশের পেঁয়াজের সংকটের অবস্থা বিবেচনা করে বার্মা (মিয়ানমার) ও পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে। আর পেঁয়াজ এমন একটা পণ্য যা পচনশীল, দেখা গেলো পঞ্চাশ বস্তা পেঁয়াজ আনলে কখনো কখনো সেখানে বিশ বস্তা টেকে, বাকিটা নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে বার্মা থেকে যে পেঁয়াজগুলো আসে সেগুলো অর্ধেকের বেশি নষ্ট হয়ে যায় পরিবহনকালীন সময়েই। নষ্ট পেঁয়াজের দাম তুলতেই দামটা আরও দ্বিগুন বেড়ে যায়।

আলী বলেন, গতকালও বার্মা পেঁয়াজ আড়তে বিক্রি করেছি ১৩০ টাকা কেজি দরে। কিন্তু আজকে শনিবারে এই পেঁয়াজ কিনেছি ২০০ টাকা কেজি দরে। তাহলে আমি বা আমরা বিক্রি করব কত টাকা করে? লোকসান দিয়ে নিশ্চয়ই ব্যবসা করব না? ঈদগাঁহ বাজারে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে (টিসিবি) অনেকটা দায়ী বলে মন্তব্য করেন আড়তের এক কর্মচারী।

তিনি বলেন, টিসিবি যে নামেমাত্র অল্প মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করে এটার জন্যেও বাজারে প্রভাব পড়ে। তবে টিসিবি যে পেঁয়াজগুলো বিক্রি করছে সেগুলো তারা যেখান থেকে পেঁয়াজ কিনি সেখান থেকেই আমরা কিনি। একে তো বাজারে পেঁয়াজ সংকট তার ওপর সরকারিভাবে সেখান থেকে পেঁয়াজ কিনে তারা কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা ভর্তুকি দিয়ে বিক্রি করে। এতে আমরা চাহিদামতো পেঁয়াজ তো কিনতেই পারি না তার ওপর অল্প পেঁয়াজের অর্ধেক তারা কিনে নিয়ে যায়। মূল সংকটটা তৈরি হয় এখানে। টিসিবি যদি সরাসরি পেঁয়াজ আমদানি করতো তাহলে ব্যবসায়ী ভোক্তা পর্যায়ে সুফলটা পাওয়া যেত। কবে নাগাদ পেয়াজের দাম কমবে এমন প্রশ্নের জবাবে বাজারের একাধিক আড়তদার বলেন, নতুন পেঁয়াজ বাজারে ওঠার পরে পেঁয়াজের দাম কমবে। এর আগে কোনভাবেই কমার সম্ভাবনা নেই৷ এবার ২৫০ টাকা কেজিতে উঠতে পারে পেঁয়াজের দাম। কেউ কেউ বলছেন এবার প্রতি কেজি পেঁয়াজ তিন শত টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ঈদগাঁহ বাজারের পেঁয়াজের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, সেখানে পেঁয়াজের মজুদ খুব একটা নেই। যারা দৈনিক ৪০ বস্তা পেঁয়াজ কেনেন তারা ৫ বস্তাও কিনতে পারছেন না।

কেউ টাকা সংকটের কথা বললেও বেশির ভাগ আড়তদাররা বলছেন, টাকা নিয়ে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে ঘুরে আসতে হয়েছে। পকেটে টাকা থাকলেও সেখানে পেঁয়াজ নেই। শনিবার (১৬ নভেম্বর) আড়তগুলোতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ২২০ টাকা কেজি দরে, বার্মিজ পেঁয়াজ ২০০, মিশরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা কেজি দরে। এসব পেঁয়াজ খুচরা বাজার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে।