নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজারে আলোচিত কোটি ইয়াবা লুটকারী মিজান বন্দুক যুদ্ধে নিহত, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার

এহসান আল কুতুবী, কক্সবাজারঃ কক্সবাজারে আলোচিত ১ কোটি ইয়াবার চালান লুটকারী মিজান বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) ভোররাতে শহরের খুরুশকুল ব্রীজ এলাকায় এ বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

পরে ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি দেশিয় বন্দুক ও এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত মিজান কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকার গোলাম মওলা বাবুল ওরফে জজ বাবুলের ছেলে ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজাহান কবির।

তিনি বলেন, মিজান একজন চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি। চলতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি শহরের মাঝির ঘাট এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা লুটের ঘটনায় মিজান জড়িত। লুটের পর থেকে সে পলাতক থাকার এক পর্যায়ে সে কৌশলে ভারতে চলে যায়।

১৭ জুলাই বেনাপোলের ইমেগ্রেশন পুলিশ মিজানকে আটকের পর বিষয়টি কক্সবাজার জেলা পুলিশকে অবগত করেন। জেলা পুলিশের একটি টিম বেনাপোল গিয়ে মিজানকে কক্সবাজার নিয়ে আসে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সোমবার (২০ জুলাই) ভোররাতে মাঝিরঘাটস্থ খুরুশকুল ব্রীজ এলাকায় লুট হওয়া ইয়াবা উদ্ধারে যায় সদর মডেল থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ।

বিষয়টি জানতে পেরে আগে থেকে উৎপেতে থাকা তার সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়ে।
মাদক কারবারিরা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে মিজানকে ছিনিয়ে নেওয়া চেষ্টাকালে গুলিবিদ্ধ হয় মিজান। এসময় পুলিশের পাল্টা গুলিতে সহযোগিরা পালিয়ে যায়।

এ সময় ঘটনাস্থলে তাদের ফেলে যাওয়া ১০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি দেশিয় বন্দুক ও এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। গুলিবিদ্ধ মিজানকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। মিজানের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে খুরুশকুলের কুলিয়াপাড়া এলাকার মোস্তাকের বাড়ি থেকে ১ লাখ পিস এবং লারপাড়ার গ্যাস পাম্পের পেছনের মোক্তার মেম্বারের বাড়ি থেকে আরও এক লাখ পিসসহ মোট দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। অভিযানে মিজানের অন্যতম সহযোগী মো. ফিরোজ ও মোস্তাক আহমেদকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারী কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার মাঝিরঘাটে মাছ ধরার ট্রলার থেকে খালাসের সময় এক কোটি পিস ইয়াবার একটি বিশাল চালান লুট হয়। ইয়াবার এই বিশাল চালান লুটে নেতৃত্ব দেন মিজান। লুটের পর ঘোনারপাড়ার তৈয়বের কাছে আত্মগোপনে ছিলেন মিজান। পরে ঘটনা জানাজানি হওয়ার এক পর্যায়ে মিজান চট্টগ্রাম থেকে বিমানযোগে ভারত পালিয়ে যান।

এক পর্যায়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশ দেশের সকল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে মিজানের বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করেন। কিন্তু ততক্ষণেই মিজান ভারত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কিন্তু, ওই চিঠির প্রেক্ষিতে গত ১৭ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ মিজানকে গ্রেপ্তার করে।