নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজারে দিনভর ভারি বৃষ্টি উপেক্ষা করে টিকা গ্রহণ

এহসান আল কুতুবী, কক্সবাজার: কক্সবাজারে সকাল ৮টা থেকে ৪টি পৌরসভা ও ৭১ ইউনিয়নের একযোগে টিকাদান শুরু হয়। কেন্দ্রগুলোতে তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে টিকা নিতে ছুটে আসে মানুষ। স্বতঃস্ফূর্তভাবে টিকা নিতে দেখা যায় বয়োবৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের।

শনিবার সকালে এয়ারপোর্ট পাবলিক হাই স্কুলে টিকাদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, টিকার কোন সংকট নেই। আগামী ১৪ আগষ্ট থেকে পর্যায়ক্রমে সবাই টিকা পাবে। করোনা থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরেই থাকুন, বিশেষ প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করুন। সাবান—পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন। সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান ও কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী একেএম তারিকুল আলম। কক্সবাজার পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ক শামিম আকতারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলী হাসান, কাউন্সিলর মিজানুর রহমান ও কাউন্সিলর শাহেনা আক্তার পাখি উপস্থিত ছিলেন।

সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, টিকা নিতে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। কক্সবাজারে ২ লাখ মানুষ টিকা নেওয়ার জন্য রেজিষ্ট্রেশন করেছে। ইতোমধ্যে ১ লক্ষ মানুষ টিকা নিয়েছে। ৫৭ হাজার মানুষ ২য় ডোজের জন্য অপেক্ষা করছে। আশা করছি সবাই টিকা পাবে পর্যায়ক্রমে।

সভাপতির বক্তব্যে পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ‘কক্সবাজারে প্রতিনিয়ত বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঝরে পড়ছে অনেক তাজা প্রাণ। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে পরিকল্পিতভাবে নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কক্সবাজার পৌরসভা।’

অন্যদিকে সকাল থেকে বৃষ্টি থাকলেও সমানতালে টিকা নিতে ভিড় দেখা গেছে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নগুলোতে।

সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নে টিকা নিতে আসা এক বয়োবৃদ্ধ জানান, টিকা দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। তাড়াতাড়ি কিভাবে দেওয়া যায় তা নিয়েও ছিলেন চিন্তিত। ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের টিকার আওতায় এনেছি। পরবর্তীতে সরকারের সিদ্ধান্তমতে সকলকে টিকার আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, সকাল থেকে টানা এক ঘন্টা অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করতে পারলেও পরে সার্ভারের সমস্যা দেখা দেয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে কথা বলে উপস্থিত সবাইকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।

জেলায় ২২৮টি বুথে মোট ৪৫ হাজার ৬০০ মানুষকে টিকা দেওয়ার কথা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here