এহসান আল কুতুবী, কক্সবাজারঃ কক্সবাজারে বন্যা কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত, পানি বন্দী ও খাদ্য সংকটে পড়া মানুষের দুয়ারে দুয়ারে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা সাধ্যমত সাধারণ মানুষের খাদ্যসংকট পূরনের চেষ্টা করছেন।
পাশাপাশি বন্যা পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তায় এলাকা ভিত্তিক টিম পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সাদ্দাম হোসাইন বলেছেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনায় দুর্যোগে আমরা সাধ্যমত মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় আমি গিয়েছি। কোথাও কোথাও বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তারাও শুকনো খাবার, খিচুড়ি পাকিয়ে দিন-রাত মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বন্যা পরবর্তী মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে। বিশেষ করে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই, আমাদের মেডিকেল টিমকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একদিকে করোনা মহামারির কারনে কঠোর লকডাউনের কারনে বিভিন্ন সংকটের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দিনমজুর মানুষগুলোও বন্যার কারনে চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে।
চরম এই মূহুর্তে বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে শুকনো খাবার, রান্না করা পৌঁছে দিয়েছি। বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরাও কোথাও হাটু পানি, কোথাও কোমর পানি পাড়ি দিয়ে বন্যার্তদের সহায়তা করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, অনেক পরিবার আছে খাদ্য সংকটে থাকলেও মুখ লজ্জায় বলতে পারে না। এমন পরিবারের খবর নিয়েও আমরা গোপনে খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। মানুষের যেকোনো দুর্যোগে, দুঃসময়ে ছাত্রলীগ সবসময় পাশে থাকবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের ৫২৫টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৭৬ হাজার ৫০০ পরিবারের ৪ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতির শিকার হয়েছে।
জেলার ৭১ ইউনিয়ন ও ৪ পৌরসভার মধ্যে ৫১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবারের বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ৩২ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

