কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালী থেকে নিখোঁজের ৩ দিন পর অর্ধ জবাই করা শাওন (১৪) নামে কিশোর এক অটোরিকশা (টমটম) চালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার রাত ৮ টায় ইউনিয়নের ঘোনা পাড়ার গহীন জঙ্গল থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। শাওন রামু উপজেলা গর্জনিয়া এলাকার জাবের আহমেদের ছেলে। তবে সে খুব কম বয়স থেকে রামু রশিদ নগর ধলির ছড়া গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে মিনি টমটম চালাতো।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত শাওন ১১ আগস্ট মিনি টমটম নিয়ে বের হয়। কোন এক সময়ে যাত্রীবেশে তাকে ঘোনা পাড়া গহীন অরণ্যে নিয়ে যায় ছিনতাইকারী চক্র। সেখানে নিয়ে তাকে জবাই করে বস্তা বেঁধে ফেলে রাখে। পরে শাওনের টমটমটি চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী এলাকায় বিক্রি করতে যায় একই এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী মনির নামের এক যুবক। সেখানে মনিরের গতিবিধি সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। এরপর পরিবারে খবর দিলে মনিরের বাবা মহিউদ্দীন স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার সিরাজুল হককে সঙ্গে নিয়ে খুটাখালী এলাকা থেকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনে।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে নিখোঁজ শাওনের স্বজনরা মনিরের বাড়ির আশেপাশের পাহাড়ের সম্ভাব্য স্থানে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে ধানী জমির ওপর খুনি চক্রের চলাচলের অতিরিক্ত পায়ের চিহ্ন দেখতে পেয়ে সন্ধান চালায়। সন্ধানের এক পর্যায়ে পাহাড়ের নিচে জঙ্গলের ভেতর বস্তাবন্দি একটি বস্তু দেখতে পান। তাদের চিৎকারের এলাকাবাসী এগিয়ে এসে পুলিশকে খবর দেন। রাত ৮ টার দিকে কক্সবাজার সদর ও রামু থানার দুটি পৃথক টিম গহীন অরণ্য থেকে লাশটি উদ্ধার করে।
এদিকে খবর পেয়ে শাওনের নানার বাড়ি এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা ছিনতাইকারী মনিরের বাসায় আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রশিদ নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমডি শাহ আলম জানান, নিহত শাওন নিখোঁজের পর তার স্বজদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হয়। শেষ পর্যন্ত লাশ উদ্ধার করেছে। ঘাতক মনিরসহ আরো ৩/৪ জন দুর্বৃত্ত খুনের সাথে জড়িত।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) সেলিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহারও দেয়া হয়নি । তবে পুলিশ কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে ঘাতক দলকে আটক করতে অভিযান চালাচ্ছে।








