কক্সবাজার ব্যুরোঃ কক্সবাজারে রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়াল্ডের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকির মামলা করা হয়েছে। কক্সবাজার কাস্টমস এক্সসাইজ ও ভ্যাট অফিস সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানা গেছে ৩ বছর আগে উদ্বোধন হওয়া এই বিলাশ বহুল রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়াল্ডে পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রদর্শনী, রেষ্টুরেন্ট, হল ভাড়া, বিনোদন, দোকান ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে যে ভ্যাট আসে তার নূন্যতম দিয়েছে কিন্তু এর বাইরে বড় অংকের ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে প্রতিষ্টানটি। তাই ইতোমধ্যে সেখানে কাস্টমস বিভাগ অভিযান চালিয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ন নথিপত্র, কম্পিউটার জব্দ করে এতে হিসাবে অনুযায়ী ইতি মধ্যে ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ভ্যাট ফাকিঁ দিয়েছে বলে জানা গেছে। তাই এ বিষয়ে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা রাজস্ব কর্মকর্তা রনজিত কুমার দাশ।
এদিকে কাস্টমস কর্তৃক মামলার বিষয়টি জানেনা বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্টানটির সত্ত্বাধিকারী শফিকুর রহমান।
কক্সবাজার রাজস্ব কর্মকর্তা রনজিত কুমার দাশ জানিয়েছেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শহরের ঝাউতলা রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড-এ অভিযান চালিয়ে তাদের গত কয়েক বছরের নথি পত্র, বিভিন্ন হিসাবের বহি এবং কম্পিউটারের পিসি জব্ধ করা হয়েছে। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষন করে তাদের দেওয়া ভ্যাট হিসাবে মিল করে দেখা গেছে তারা প্রায় ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ভ্যাট ফাকিঁ দিয়েছে। সে জন্য ইতি মধ্যে প্রতিষ্টানটি বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
তিনি জানান, রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডে শুধু মাছের প্রদর্শনী খাতে নয়, বিভিন্ন বিবাহ, সভা সেমিনার হয় নিয়মিত।
এছাড়া রেষ্টুরেন্ট আছে,থ্রিডি ভিডিওর ব্যবস্থা আছে আরো বেশ কিছু বিনোদনের খাত থেকে তারা আয় করে কিন্তু সে পরিমান ভ্যাট তারা কখনো দেয়নি। তাই উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সরকারকে ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায় করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রাজস্ব কর্মকর্তা বলেন টাকার পরিমান আরো বাড়তে পারে।
এদিকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়া এই রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড পর্যটকদের জন্য বাড়তি বিনোদনের ব্যবস্থা হলেও সম্প্রতী এই প্রতিষ্টানটি মালিকের বিরুদ্ধে বেশ কিছু প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। উনার নিজ এলাকা কুমিল্লা এবং সাতক্ষিরায় বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে টাকা নিয়ে আর ফেরত না দিয়ে উল্টো বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দেওয়ার অভিযোগও ইতি মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে।
এদিকে রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডে কর্মরত সাবেক এক কর্মকর্তা জানান,আমাকে প্রথমে ৬০ হাজার টাকা বেতনে এখানে চাকরীর কথা বলা হয়েছিল,তার আগে আমি আরেকটি মার্কেটিং কোম্পানীতে চাকরী করতাম কিন্তু রেডিয়েন ফিস ওয়ার্ল্ডের মালিকের ছলনায় পড়ে সেই চাকরীতে অব্যাহতি নিয়ে এখানে যোগদান করেছি প্রথম ৩ মাস কোন মতে বেতন দিলেও এর পর থেকেই শুরু হয়েছে নানান ঝামেলা তিনি প্রায় সময় মাস শেষ হলে বিভিন্ন ব্যাক্তিগত ঝামেলা দেখিয়ে এড়িয়ে যেত,পরে দেখছি উনার অনেক লেনদেন যা এখান থেকে শুধ করতে চায়,আবার অনেক পাওয়ানাদার প্রতিদিন এসে বিরক্ত করে যা খুবই বিব্রতকর। পরে বুঝতে পারলাম এখানে চাকরী করা সম্ভব না। আর মালিক শফিকুর রহমানের অনেক বেশি লেনদেন রয়েছে। তাই চাকরী ছেড়ে দিয়েছি শুধু আমি নয় অনেকে বেতন না নিয়েও চাকরী ছেড়ে দিয়েছে এই প্রতিষ্টান থেকে।
এদিকে কাস্টমস অফিস কর্তৃক মামলার বিষয়টি জানেনা বলে জানান রেডিয়েন ফিস ওয়ার্ল্ডের সত্ত্বাধিকারী শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তারা আমাদের কাগজ পত্র নিয়ে গেছে এটা সত্য তবে মামলার বিষয়টি জানিনা। সদর সার্কেলের রাজস্ব কর্মকর্তা রনজিত কুমার দাশ জানান করোনা সংকটের সময় পর্যটন শহর কক্সবাজারে কোন ব্যবসা বানিজ্য হয়নি তাই রাজস্ব আদায়ও হয়নি। এখন কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে আগে যারা নিয়মিত ভ্যাট দিত তাদের পাশাপাশি ভ্যাটের আওতা বাড়াতে এবং নতুন ভাবে রাজস্ব আদায় বাড়াতে ইতি মধ্যে আমি প্রায় ৪০০ প্রতিষ্টানের জরিপ করেছি যাদের বেশির ভাগরই নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। আশা করছি তারা ভ্যাট দেওয়া শুরু করলে রাজস্ব আদায় আরো বাড়বে।








