কক্সবাজার জেলার তিন উপজেলায় ২৩ জন রোহিঙ্গা ভোটারকে প্রাথমিক শনাক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। যে ২৩ জনকে নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
যার মধ্যে রয়েছে টেকনাফ উপজেলায় ১৩ জন, কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৫ জন এবং চকরিয়া উপজেলায় ৩ জন। তদন্তের শুরুতে কক্সবাজার সদর উপজেলায় ফয়াজ উল্লাহ নামের এক ব্যক্তি রোহিঙ্গা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
এব্যাপারে মামলা করে আটক ফয়াজ উল্লাহ কক্সবাজার সদর থানায় সোর্পদ করা হয়েছে। এমন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এসএম শাহাদাত হোসেন।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব অনুসন্ধানে ৭৮ জনকে প্রাথকিমভাবে রোহিঙ্গা ভোটার হিসেবে শনাক্ত করেছে। যাদের ব্যাপারে অধিকতর তদন্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে কক্সবাজার জেলার ২৩ জনের নাম রয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা কঠোরভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
তিনি জানান, তদন্তের শুরুতে ফয়াজ উল্লাহ নামের একজনকে রোহিঙ্গা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। অপর ২২ জনের ব্যাপারেও তদন্ত চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাহাড়তলীর ইসলামপুরে দীর্ঘদিন ধরে স্বপরিবারে বসবাস করে আসছেন রোহিঙ্গা ফয়াজ উল্লাহ (৩৯)। ওখানে তিনি একটি চায়ের দোকানও করেন। ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী তার পিতার নাম মৃত লাল মিয়া, মায়ের নাম চেমন বাহার। ফয়াজ উল্লাহর স্ত্রী মাহমুদা খাতুন (৩৭)ও রোহিঙ্গা। প্রায় ২৫ বছর ধরে তারা স্বপরিবারে কক্সবাজার পৌর এলাকায় বসবাস করে আসছেন। অনেকেই জানতো না তারা যে বাংলাদেশী নয়। নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে রোহিঙ্গা ফয়াজ উল্লাহ বাংলাদেশী আইডি কার্ড পাওয়ার পেছনের তথ্য।
রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার ফয়াজ উল্লাহ অনেক তথ্য জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
ফয়াজ উল্লাহ জানিয়েছেন, ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাগজ-পত্র তিনি বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে সংগ্রহ করেন। ভোটার হওয়ার নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে অনেকবার কক্সবাজার নির্বাচন অফিসে যান। কিন্তু অপর্যাপ্ত ডকুমেন্ট ও সন্দেহযুক্ত আবেদন হওয়ায় তাকে বারবার ফেরত দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। পরে খোকন নামের একজনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে গিয়ে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভোটার হওয়ার জন্য ছবি তোলেন।
এতে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।








