হাবিবুর রহমান সোহেল,রামু: বর্তমানে রামুর বৃহত্তর গর্জনিয়া কচ্ছপিয়া এলাকায় প্রায় ৫ শতাধিক লাইসেন্স বিহীন মোটর সাইকেল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গ্রামগঞ্জের নানা সড়কে। অবৈধ পন্থায় স্বল্পমূল্যে গাড়ী বেচাকেনা হওয়ায় বিভিন্ন পেশাসহ কম বয়সী ছেলেরাও এসব গাড়ীর প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে।
আর অনুসন্ধান বলছে, এসব মোটর সাইকেলের অধিকাংশ গাড়ি সীমান্ত পথে ইয়াবা পাচারে ব্যবহার হচ্ছে।
আইন শৃংখলা বাহিনীর হিসাব মতে, গেল দু,মাসে যেসব ইয়াবা, মাদক, স্বপ্ন চোরাই চালান আটক হয়েছে, তার সব কটি চালানে ওইসব অবৈধ নাম্বার প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগ আছে, ওইসব অবেধ গাড়ি ব্যবহারকারী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ওইসব অবৈধ পাচার কাজে জড়িত। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ঈদগড় ইউনিয়নের বড়বিল এলাকার দুয়েকজন অবৈধ মোটর সাইকেল বিক্রেতা ও মিকারদের যোগসাজশে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অল্প মূল্যে এসব গাড়ী ক্রয় করে, এলাকায় এনে প্রতি গাড়ী ১০/১৫ হাজার মুনাফা নিয়ে দেদারছে বিক্রি করে আসছে। স্বল্পমূল্যে গাড়ী বেচাকেনার বিষয় এলাকায় জানাজানি হলে জেলা ও উপজেলা থেকে এসে অবৈধ টানা গাড়ী বেচাকেনার হিড়িক পড়েছে। এসব গাড়ী বেচাকেনার ব্যাপারে যেসব সংস্থার অভিযান পরিচালনা করা দরকার, এদের বর্তমানে কোন মাথাব্যাথা নেই বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এতে করে অবৈধ মাদক পাচারের পাশাপাশি, সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণও দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার শংকা প্রকাশ করেন এলাকার লোকজন।
পাশাপাশি ক্রাইম জোন খ্যাত ঈদগড়-বাইশারী এলাকার বিভিন্ন স্থানে এসব ভাড়ায় চালিত টানা মোটর সাইকেল নিয়ে সুযোগ বুঝে চুরি, ডাকাতি, অপহরণসহ অপরাধমূলক কাজ কর্ম করে যাচ্ছে এসব চক্ররা। চিহ্নিত এসব অবৈধ গাড়ী চালক ও বিক্রেতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী জানান এলাকাবাসী।
অন্যথায় এলাকার যুব ও ছাত্র সমাজ দিন দিন অধঃপতনের দিকে ধাবিত হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক টানা গাড়ী চালকের মতে, তারা মাসিক ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সমিতিতে টাকা জমা করে বিভিন্ন পয়েন্টে টাকা দিয়ে এসব অবৈধ গাড়ী চালানোর সুযোগ নেন বলে সূত্রে প্রকাশ।
সাধারণ লোকজনের মতে, যদি অল্প সময়ে, কচ্ছপিয়া, গর্জনিয়া, দৌছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়ি, ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়ক, ঈদগড়-বাইশারী সড়ক, ঈদগড়-আলীক্ষ্যং সড়ক, ঈদগড়-রাঙ্গাঝিরি, কাগজি খোলা-ডুলাহাজারার একাংশসহ বিভিন্ন সড়কে এসব অবৈধ গাড়ী চালক কিংবা বিক্রেতাদের দমন করা না গেলে অচিরেই এলাকাজুড়ে পূর্বের ন্যায় ফের নানা অপরাধ অপকর্ম বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সচেতন মহল।
সে সাথে ভূঁয়া নেমপ্লেট ব্যবহারকারীদের চিহ্নিত করারও দাবী করে এলাকাবাসীর।
এই ব্যাপারে, গর্জনিয়া পুলিশ ফাড়ির আইসি মুহাম্মদ ফরহাদ আলী জানান, তিনি এই বিষয়ে উপর মহলের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিবেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি এই ব্যাপারে দ্রুত সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিবেন।








