Site icon CPLUSBD.COM

করোনাভাইরাস: চট্টগ্রামে প্রশাসন-সশস্ত্র বাহিনীর কর্মপদ্ধতি নির্ধারণে সভা অনুষ্ঠিত

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনীর কর্মপদ্ধতি নির্ধারণে সভা করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়

বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধতন কর্মকর্তা, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন ছাড়াও প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনী চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে মঙ্গলবার থেকে নগরীতে সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে সেনাবাহিনী প্রশাসনকে সহায়তায় নিয়োজিত হবে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে তারা জেলা ও বিভাগীয় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে।

এদিকে  সিপ্লাসের এক প্রশ্নের উত্তরে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, যেহেতু চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসার জন্য জন্য নির্ধারিত জেনারেল  হাসপাতাল ও ফৌজদারহাট বিশেষায়িত হাসপাতালের আইসিইউ নাই। তাই কিছু ক্লিনিকের দুইটি করে আইসিইউ বেড করোনা রোগীদের নির্ধারন করা হয়েছে। একটি ক্লিনিকের সম্পূর্ণ আইসিইউ করোনা রোগীদের জন্য ব্যবস্থা করা যায় কিনা তা আজকের মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে। এক্ষেত্রে আইসিইউর বিল রোগীকেই দিতে হবে।

সভায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ৫-৭ জনের বেশি জড়ো হওয়া ঠেকাতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে মাঠে কাজ করবেন ।

তিনি জানিয়েছেন, ‘কোনো জায়গায় অধিক লোক যাতে জড়ো হতে না পারে, ৫-৭ জনের বেশি লোক যাতে জড়ো হতে না পারে এবং নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে যাতে লোকজন চলাফেরা করে- সেটা নিশ্চিত করবে সেনাবাহিনী।

মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, ইন অ্যাইড টু সিভিল পাওয়ার অনুসারে সেনাবাহিনী যে কাজগুলো করবে, সেই কর্মপরিকল্পনা সভায় আমরা ঠিক করেছি। হোম কোয়ারেন্টিনে যারা আছে, সেখানে অনেকেই কোয়ারেন্টিন মানছে না। আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দিয়েছি অনেককে। এরপরেও অনেকে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

‘সব প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীকে সরকার মাঠে নামিয়েছে। এখানেও (চট্টগ্রামে) সেনাবাহিনী সেটা করবে। পাশাপাশি আমাদের সিভিল প্রশাসনকে তারা সবধরনের সহায়তা দেবে।’

জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামে আমাদের হোম কোয়ারেন্টিনে আছে ৯৭৩ জন। এ সংখ্যা গত ৩ দিন ধরে একই অবস্থায় আছে। এটা আমাদের জন্য একটা পজিটিভ দিক। নতুন করে কোনো প্রবাসী আমাদের এখানে আসেনি। আমাদের এখানে আইসোলেশনেও কোনো রোগী নেই। তবে যদি আইসোলেশনের দরকার হয়- ৩টি হাসপাতাল আমরা তৈরি রেখেছি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আমরা ফ্লু কর্নার ওপেন করেছি। জেনারেল হাসপাতালেও ফ্লু কর্নার ওপেন করা হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কমপক্ষে দুইটি আইসিইউ বেড করোনা রোগীর জন্য রাখতে বলা হয়েছে। দু’একটি বেসরকারি হাসপাতালকে পুরোপুরি করোনা বেইজড করতে আমরা কাজ করছি।

মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, দু’একদিনের মধ্যে চট্টগ্রামে করোনা শনাক্তের কিট আসবে। ডাক্তারদের জন্য পিপিই আমরা পেয়েছি। ডাক্তারদের পিপিইসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে। আমরা আরও সরঞ্জাম চেয়েছি। এলে সেগুলোও দেয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য আমরা ৫টি ভেন্যু ঠিক করেছি। সিআরবির চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতাল, হালিশহরের পিএইচ আমিন উচ্চ বিদ্যালয়, বহদ্দারহাটের সিডিএ গার্লস স্কুল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ ফজিলাতুন্নেসা হল এবং পটিয়ার মোজাফফরাবাদ স্কুলকে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন হিসেবে তৈরি করেছি।

জেলা প্রশাসক বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কোনো রোগীর উপসর্গ দেখা দিলে তিনি প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাবেন। ডাক্তার যদি তাকে নমুনা সংগ্রহ করতে বলেন, বা তাকে আইসোলেশনে পাঠানোর প্রয়োজন মনে করেন- তাহলে ১০টি অ্যাম্বুলেন্স আমাদের প্রস্তুত রয়েছে। সেই অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ তাকে হাসপাতালের আইসোলেশনে নিয়ে আসবে। সেখানে তার চিকিৎসা হবে।