সিপ্লাস ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় ‘কুইক টেস্টিং’ জরুরি হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
সোমবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “দেশে কুইক টেস্টিং জরুরি হয়ে উঠেছে। দ্রুততম সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হলে রোগীর চিকিৎসায় চিকিৎসকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।”
বাংলাদেশে এখন করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য আরটি-পিসিআর পরীক্ষা হচ্ছে, যা পুরো বিশ্বেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি বলে বিবেচিত। কিন্তু এ পদ্ধতিতে ফলাফল পেতে সময় লাগে তুলনামূলকভাবে বেশি।
করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি শনাক্তের র্যাপিড টেস্টের সুযোগ থাকলেও ফলাফলে ভুলের মাত্রা বেশি থাকে বলে বাংলাদেশ সরকার এখনও ওই পদ্ধতি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও র্যাপিড টেস্টের ওপর নির্ভর না করতে পরামর্শ দিয়ে আসছে।
বর্তমানে যেভাবে দেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষা হচ্ছে, তার সমালোচনা করে জি এম কাদের বলেন, “টেষ্ট করতে তিন দিন সময় লাগে আর রেজাল্ট পেতে সময় লাগে আরো সাত দিন। দেখা যায় দশ দিনে রোগী মারা যাচ্ছে।”
এক্ষেত্রে ‘কুইক টেস্টিং’ হলে ফলাফল ‘ভালো হতে’ পারে মন্তব্য করে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, “দেশে উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষা করা যেতে পারে। অথবা বিদেশ থেকে আমদানি করে হলেও কুইক টেস্টিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।”
করোনাভাইরাস সঙ্কট মোকাবিলায় বেসরকারি খাতে চিকিৎসাকে আরও উৎসাহ দেওয়ার কথাও বলেন জিএম কাদের।
লকডাউনের বিধিনিষেধ কমিয়ে আনায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হলেও জি এম কাদের সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘সময়োপযোগী পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন. “সরকার লকডাউন সীমিত করেছে এটা সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ, দেশের ৫ কোটি খেটে খাওয়া মানুষকে তিন বেলা খাবার ও ওষুধপত্র দিয়ে লকডাউন সফল করা সম্ভব নয়। সীমিত সম্পদের দেশে পরোপুরি লকডাউন সফল হবে না।
“আমাদের দেশের মানুষ জীবিকার জন্য নৌকা চড়ে সাগর পাড়ি দেয়। জীবিকার জন্য তারা বন-জঙ্গল এবং মরুভূমি পাড়ি দেয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। তাই জীবিকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লকডাউনে দেশের খেটে খাওয়া মানুষগুলো কর্মহীনতায় অনাহারে-অর্ধাহারে আছে।
“তাই সরকার লকডাউন শিথিল করে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে মনে করছি।”








