দেশে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেলে জেলা পর্যায়ে সম্ভাব্য আক্রান্তদের কোয়ারেন্টিনে রেখে পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা স্থাপনা চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
বর্তমানে ঢাকায় কোয়ারেন্টিনের জন্য ৪০০ শয্যা প্রস্তুত রয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে ১০০ এবং উপজেলা পর্যায়েও কোয়ারেন্টিনে জন্য স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
সোমবার সচিবালয়ে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।
গতবছরের শেষে চীনের উহানে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত আড়াই মাসে তা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের একশর বেশি দেশে। বাংলাদেশেও তিনজনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা রোববার সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়।
নভেল করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায়, এর উপসর্গ থাকে ফ্লুর মত। এ ভাইরাস অত্যন্ত ছোঁয়াচে বলে কারও মধ্যে লক্ষণ দেখা গেলে তাকে প্রথমে অন্যদের থেকে আলাদা করে ফেলা হয়, যাকে বলা হচ্ছে আইসোলেশন।
আর আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তাদের আলাদাভাবে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে, একে বলা হচ্ছে কোয়ারেন্টিন।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি এবং জেলা ও উপজেলা কমিটিকে দ্রুত উদ্যোগী হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “জেলা পর্যায়ে ১০০ বেড এবং ঢাকায় প্রায় ৪০০ বেডের ব্যবস্থা রয়েছে। সব জায়গায় ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। নার্স ও ডাক্তারদের প্রোটেকটিভ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
এ পর্যন্ত যে প্রস্তুতি হয়েছে তাতে ‘সন্তুষ্ট’ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা তারা নেবেন।
জেলায় ১০০ শয্যার ব্যবস্থা করতে গিয়ে সাধারণ চিকিৎসা ব্যাহত হবে কিনা- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, মূল হাসপাতালে ওই ১০০ শয্যা হবে না।
“প্রাথমিকভাবে এক দুইজন রোগী এলে সেজন্য হাসপাতালের টপ ফ্লোরে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু তারপর বাড়লে আলাদা জায়গা এয়ারমার্ক করা হয়েছে, সেখানে রাখব, সেখানে আর কোনো রোগী থাকবে না। এই হল ব্যবস্থা সারা বাংলাদেশে।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “তারা বাংলাদেশের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য বিশেষ বরাদ্দ, তবে আরো বেশি লাগবে মোকাবেলা করতে। আমরা নিজেরাই যতটা পারি করব, যারা সাহায্য করে সেটা আমরা গ্রহণ করব। দেশের বড় বড় কোম্পানি ও ব্যক্তিরা এগিয়ে আসবেন বলে আশা করি।”
করোনাভাইরাস পরীক্ষায় দেশে ‘পর্যাপ্ত’ কিট আছে এবং আরো আনার ব্যবস্থা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে থেকে যে সচেতনামূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে, তার সঙ্গে পোস্টার-ব্যানার যুক্ত করে আগামী দুই দিনের মধ্যে সারা দেশ প্রচার চালানো হবে।
আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন,“ বিদেশ থেকে যারা আসছে তাদের বলব- এ মুহূর্তে আসবেন না, দূতাবাসগুলো যেন প্রচার করে সেখানে থাকুক। যারা আসবে তারা যেন সেলফ কোয়ারেন্টিনে থাকেন। প্রয়োজন হলে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করে দেব।”
গুজব যাতে না ছড়ায় সে ব্যাপারে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,“রিউমার যাতে না ছড়ায়। সোশাল মিডিয়াতে বিভিন্ন রকমের রিউমার ছড়ায় তাতে আতঙ্কিত হয়। আমরা আশা করব সবাই যন্তশীল হবেন। দেশের একটি বিশেষ মুহূর্ত যেখানে সবার সহযোগিতা দরকার।”
ঘনবসতিকে বাংলাদেশের একটি ‘বিরাট দুর্বলতা’ হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রী বলেন, “আরেকটি দুর্বলতা হচ্ছে আমাদের এক কোটি লোক দেশের বাইরে কাজ করে। ১০২টা দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে গেছে, প্রতিটি দেশে লোক রয়েছে, তারা যদি নিয়ে আসে দেশে, তাহলে বৃদ্ধি পাবে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্ট হবে।”
তবে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিয়েছে এমন দেশগুলোর সঙ্গে ফ্লাইট বাতিলের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “চারটি দেশের অনঅ্যাইভাল ভিসা বন্ধ করা হয়েছে, প্রয়োজন হলে আরও দেশের অন অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করা হবে। … ওইসব দেশে থেকে যারা আসবে তাদের বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, পরীক্ষা নিরিক্ষা করে প্রয়োজনে কোয়ারেন্টিনে নিয়ে যাব।”








