নিউজটি শেয়ার করুন

করোনাভাইরাস: বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা

চীনের ৩১টি প্রদেশের সবগুলো এবং বিশ্বের অন্তত ১৮টি দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) গ্লোবাল হেলথ ইমার্জেন্সি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান টেড্রোস অ্যাডানোম গ্রেবিয়াসিস বলেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে দুর্বল স্বাস্থ্য সেবার দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও-এর প্রধান টেড্রোন অ্যাডানোম গ্যাব্রিয়াসিস বলেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণার পেছনে মূল কারণ চীনে যা ঘটছে তা নয় বরং অন্যান্য দেশে এটা ছড়িয়ে পড়ছে, এটা আশঙ্কার।’ উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে যেসব দেশের স্বাস্থ্য সেবা ততটা উন্নত নয় সেসব দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া।

বেইজিং জানিয়েছে, চীনের হুবেই প্রদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে আরও ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, এনিয়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ২১৩ জনে পৌঁছেছে আর আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৬৯২ জন। ভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে প্রতিদিন সকালে নিহত ও আক্রান্তের সংখ্যা প্রকাশ করছে চীন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব মতে চীনের বাইরে ১৮টি দেশে ৯৮জনের শরীরের এমন ভাইরাস পাওয়া গেছে। এদের বেশির ভাগই চীনের উহান রাজ্য থেকে আসা। তবে চীনের বাইরে এখনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, মানব দেহের মাধ্যমে ছড়িয়েছে এমন ১৮টি ঘটনা পাওয়া গেছে জার্মানি জাপান, ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিগত দশকে পাঁচটি আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। ২০০৯ সালে এইচ ওয়ান সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের জন্য, ২০১৩ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার প্রাদুর্ভাব, ২০১৪ সালে পোলিও, ২০১৬ সালে জিকা ভাইরাস এবং ২০১৯ সালে আবারও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের জন্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিগত দশকে পাঁচটি আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। ২০০৯ সালে এইচ ওয়ান সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের জন্য, ২০১৩ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার প্রাদুর্ভাব, ২০১৪ সালে পোলিও, ২০১৬ সালে জিকা ভাইরাস এবং ২০১৯ সালে আবারও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের জন্য।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০টির মতো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত চীন, থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, হংকং, সিঙ্গাপুর, ভারত, মালয়েশিয়া, নেপাল, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তাইওয়ানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ইসরায়েলেও এক রোগীর শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে চীনের মধ্যাঞ্চলের উহান শহর থেকে শত শত বিদেশি নাগরিককে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং নিহতের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের উহান থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।

তবে বিস্তার ঠেকাতে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ চীনগামী বিমানের ফ্লাইট বাতিল করছে। এর মধ্যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, এয়ার এশিয়া, ক্যাথে প্যাসিফিক, এয়ার ইন্ডিয়া ও ফিনএয়ার ইতোমধ্যে চীনগামী বিমানের সংখ্যা কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে।