নিউজটি শেয়ার করুন

করোনাভাইরাস: মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠান পুন:বিন্যাসের সিদ্ধান্ত

করোনাভাইরাসের কারণে মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে বড় আকারের কোন জনসমাবেশ হবে না। রোববার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এমন তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, প্যারেড গ্রাউন্ডে বড় পরিসরে মুজিববর্ষের যে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, সেটিও পুনর্বিন্যাস করে বিস্তারিত আগামীকাল (০৯ মার্চ) জানানো হবে।

অবশেষে বংলাদেশেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট-আইইডিসিআর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। রোববার বিকালে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত আইইডিসিআর’র নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলা হয়, আক্রান্ত তিনজনের দু’জন পুরুষ, একজন নারী।

পুরুষ দু’জন ইতালি থেকে সম্প্রতি আলাদাভাবে দেশে প্রবেশ করেন। আক্রান্ত নারী ইতালি প্রবাসী এক পুরুষের পরিবারের সদস্য। সন্দেহজনক আর দু’জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

ইতালি ফেরত দু’জন ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়েই দেশে ফিরেছেন। কিন্তু সেখানে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তারা নিজ উদ্যোগে আইইডিসিআর’র হটলাইনে যোগাযোগ করলে নমুনা সংগ্রহ শেষে পরীক্ষার পর রোগ নিশ্চিত করা হয়।

অধিদফতর কর্মকর্তারা জানান, শনিবার রাতে তিনজন রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি সেবা বিভাগের মহাপরিচালককে জানানো হয়। তিনি ওই সময় এই বিষয়টি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রীকে অবহিত করেন। এরপর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাসায় গভীর রাত পর্যন্ত এ নিয়ে বৈঠক হয়। মন্ত্রীর নির্দেশে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে স্বাস্থ্যসেবা বিভগের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সারা রাত নির্ঘুম কাজ করেন।

রোববার সকালে দেশে করোনাভাইরাসের উপস্থিতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাধমন্ত্রীকে জানানো হয়। তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সবকিছু ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। এরপরই বিষয়টি গণমাধ্যমে জানায় আইইডিসিআর।

ইন্সটিটিউটের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, শনিবার পরীক্ষায় তাদের সংক্রমণের বিষয়টি ধরা পড়ে। আক্রান্ত তিনজনকে হাসপাতালের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, প্রবাসী দু’জন দেশে আসার পর তাদের শরীরে উপসর্গ দেখা দেয়। তারা আইইডিসিআর’র হটলাইনে ফোন করলে ইন্সটিটিউটের র‌্যাপিড রেসপন্স টিম তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠায়। সেখানে দু’জনের শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া যায়। এরপর তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত চারজনকে পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে আরও একজনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের লক্ষণ ও উপসর্গ দেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আক্রান্ত তিনজন সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে রোগীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়া যাবে না। তবে এ রোগ প্রতিরোধে দেশের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। তাই দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।