নিউজটি শেয়ার করুন

করোনাভাইরাস: মৃত্যুতে চীনকে ছাড়ালো নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য

রোববার সকালে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ৫৬৫ জন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা বিরাজ করছে নিউ ইয়র্ক শহরের ‍পূর্ব দিকের লং আইল্যান্ডে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ‘দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে’ বলে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো।

অঙ্গরাজ্যটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৩০ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যা এখানে এ পর্যন্ত একদিনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা। এদের নিয়ে অঙ্গরাজ্যটির মোট মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার ছাড়িয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ২৬২৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে নিউ ইয়র্ক শহরে।

শহরটির হাসপাতালগুলো অসুস্থদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছে, কিন্তু তারপরও মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে পারছেন না। মৃতদের কবর দেওয়া নিয়ে রীতিমতো সংগ্রাম করছে শহরের মর্গগুলো। সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় গুরুতর অসুস্থদের রোগীদের স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের জীবনের শেষ মূহুর্তগুলোতেও পাশে থাকতে পারছেন না।

নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে মোট কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ১৩ হাজার, যা বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যায় চতুর্থ স্থানে থাকা জার্মানির চেয়েও অনেক বেশি এবং প্রায় ইতালির মোট সংখ্যার কাছকাছি।

আগামী চার থেকে ১৪ দিনের মধ্যে অঙ্গরাজ্যটিতে সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলে গভর্নর কুমো জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের হিসাবে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য, যা আটলান্টিক পাড়ের নিউ ইয়র্ক শহরের থেকে শুরু করে উত্তরপশ্চিম দিকে কানাডার সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত, সবচেয়ে খারাপ অবস্থা থেকে সপ্তাহখানেক দূরে আছে।

বিশ্বের মধ্যে এখন সর্বোচ্চ কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ফ্লু ধরনের এই শ্বাসতন্ত্রের রোগে ভুগছে দেশটির তিন লাখ ১২ হাজারেরও বেশি লোক এবং মৃত্যু হয়েছে আট হাজার ৪৯৬ জনের।

হোয়াইট হাউসের মেডিকেল বিশেষজ্ঞরা কোভিড-১৯ মহামারীতে যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ থেকে দুই লাখ ৪০ হাজার লোক মারা যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন। দেশব্যাপী ঘরবন্দি নির্দেশনা থাকার পরও এত লোকের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।