প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে অতিথিদের শঙ্কা দূর করতে ভিডিও কনফারেন্সে নিজেদের বিয়ের আয়োজনে হাজির হয়েছে চীনফেরত এক নবদম্পতি।
রোববার সিঙ্গাপুরের একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ব্রিটিশ এ সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত বছরের অক্টোবরে বিয়ে করার পর জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে স্ত্রী কাং তিংয়ের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তাকে নিয়ে চীনের হুনান প্রদেশ ঘুরে আসেন সিঙ্গাপুরের জোসেফ ইয়েও।
রোববার এম হোটেলে ছিল তাদের ‘দ্বিতীয় বিয়ে’, আয়োজনটি ছিল মূলত নবদম্পতিকে ঘিরে ইয়েও’র পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের ভোজ।
বর-কনে দুই দেশের হলে এশীয় দেশগুলোতে প্রায়ই এ ধরনের ‘দ্বিতীয় বিয়ে’র আয়োজন হয় বলে বিবিসি জানিয়েছে।
চীনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি ইয়েও-তিংয়ের এ আয়োজনে বিপত্তি বাধায়। নিউমোনিয়া সদৃশ ভাইরাসটিতে মানবদেহ থেকে অন্য মানবদেহে সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্ত অনেকের শরীরে লক্ষণগুলো সহজে ধরাও পড়ে না।
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে হুনানের পার্শ্ববর্তী হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস এরই মধ্যে সাড়ে ৫০০ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ২০ হাজার।
এ পরিস্থিতিতে অতিথিদের অনেকেই বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবেন না বলে জানিয়ে দেন। বাধ্য হয়ে এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন ইয়েও-তিং। তাতে আবার বাধ সাধে হোটেল কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে গেছে, এখন কোনো অবস্থাতেই অনুষ্ঠানের সময় ও খরচ নিয়ে দরকষাকষি করা যাবে না।
শেষে ভিডিও কলে হাজির হয়ে অনুষ্ঠানটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নবদম্পতি।

রোববার শতাধিক অতিথি এম হোটেলের নির্ধারিত অনুষ্ঠান কক্ষে হাজির হন। ডিনারের পাশাপাশি তারা ইয়েও-তিংয়ের সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য কামনা করে টোস্ট করেন, নবদম্পতির বক্তৃতাও শোনেন। এ পুরো আয়োজনের সময় বর-কনে ছিলেন এম হোটেলেরই অন্য একটি কক্ষে। সেখান থেকেই ভিডিও কলে তারা অতিথিদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন।
“আমরা অতিথিদের বলি আমরা ভিডিও কনফারেন্সে আপনাদের সঙ্গে যুক্ত হবো। অনেকে এ কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে যায়। আমি ভেবেছি, যদি আমরা অনুষ্ঠানকক্ষে থাকি, পরিস্থিতিই হয়তো অন্যরকম হয়ে যাবে। মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়বে। আমার বাবা-মা’ও এই প্রস্তাবে খুশি ছিলেন না, অবশ্য পরে তারাও রাজি হন,” বলেছেন ইয়েউ।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চীনের বিভিন্ন প্রদেশের ওপর আরোপ করা নানামাত্রিক বিধিনিষেধের কারণে তিং এর বাবা-মাও সিঙ্গাপুরে আসতে পারেননি। অনুষ্ঠানে শেষ পর্যন্ত ১৯০ অতিথির মধ্যে ১১০ জন হাজির হন।
এরপর এম হোটেলের অন্য কক্ষ থেকে অনুষ্ঠানস্থলের নির্ধারিত ফোনে ডায়াল করেন ইয়েও-তিং। ভিডিওতেই দু’জন হোটেল কর্তৃপক্ষের পাঠানো শ্যাম্পেনের কর্ক খুলেন, অতিথিদের সঙ্গে টোস্ট করেন।
“অনুষ্ঠানে আসার জন্য আমরা অতিথিদের ধন্যবাদ জানাই। বলি ডিনার উপভোগ করতে।
“পুরো ব্যাপারটাতে আমরা দুঃখিত নই, যদিও কিছুটা হতাশ। যেহেতু আর কোনো বিকল্পই ছিল না, তাই আমাদের খেদও নেই,” বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে এমনই অনুভূতি ইয়েও’র।








