সিপ্লাস ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া নভেল করোনাভাইরাসের উদ্ভব সম্ভবত প্রাকৃতিকভাবেই হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ এক সামরিক কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন।
দেশটির জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলে বলেছেন, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে ভাইরাসটির আবির্ভাব প্রাকৃতিক বলে ইঙ্গিত দেয়া হলেও এ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার পেন্টাগনের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
চীনের একটি পরীক্ষাগারে ভাইরাসটি বানানোর পর সেখান থেকেই এটি ছড়িয়ে পড়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন অংশে গুঞ্জন রয়েছে। বেইজিং অবশ্য শুরু থেকেই এ ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে’ নাকচ করে আসছে।
এ ধরনের গুজব মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
চীনের পরীক্ষাগারেই ভাইরাসটি বানানো হয়েছে এবং পরে সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত এটি ছড়িয়ে পড়েছে- যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য আছে কি না মঙ্গলবারের ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক এ বিষয়ে মিলেকে প্রশ্ন করেন।
“বিভিন্ন গণমাধ্যমে, ব্লগ সাইটসহ বিভিন্ন জায়গায় এ সংক্রান্ত অসংখ্য গুজব ও জল্পনা-কল্পনা আছে। গভীর আগ্রহ নিয়েই যে আমরা এ বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমরা এ বিষয়ে ব্যাপক তথ্যও সংগ্রহ করেছি। যদিও এখনই সিদ্ধান্ত টানা ঠিক হবে না, তবে এই মুহুর্তে আমি বলতে পারি, তথ্য প্রমাণ এটিকে প্রাকৃতিক বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত নই,” জবাবে বলেছেন মিলে।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের এ মন্তব্য বেইজিং-ওয়াশিংটন দ্বন্দ্বকে নতুন করে উসকে দিতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন।
গত মাসে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান এক টুইটে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীই উহানে করোনাভাইরাস নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে। হোয়াইট হাউসের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে করোনাভাইরাসকে ‘চীনা ভাইরাস’ নামে অভিহিত করা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও বেইজিংয়ের ওই অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, বিশ্বজুড়ে মহামারী ছড়ানোর ক্ষেত্রে নিজেদের ব্যর্থতা ও ভাইরাস সম্পর্কে বিশ্বকে সঠিক তথ্য না দেয়ার সমালোচনা ঢাকতেই বেইজিং এ অভিযোগ করেছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি তাদের একটি পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে ভাইরাসটি বানানো ও সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়া সংক্রান্ত গুজব প্রত্যাখ্যান করেছিল।
ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের উহানেই ভাইরাসটির প্রথম সন্ধান মেলে। ছোঁয়াচে এ ভাইরাস এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে ২০ লাখেরও বেশি মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটিয়েছে।

