Site icon CPLUSBD.COM

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চট্টগ্রামে ক্লোরিন থেরাপি

সিপ্লাস ডেস্ক: পানির মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে এবার ‘ক্লোরিন’ থেরাপি কার্যকর করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। আপাতত পানিতে করোনার ভাইরাস শনাক্ত সম্ভব না হওয়ায় বিশেষ সতর্কতা হিসাবে পানিতে ক্লোরিন মেশানোর মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে সংস্থাটি। একই সাথে নগরীর ২শ ৪০টি পয়েন্ট থেকে নমুনাও সংগ্রহ করছে তারা। তবে পানিতে মাত্রাতিরিক্ত ক্লোরিনের ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

ইউরোপের কয়েকটি দেশে পানির মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের বিস্তার ঘটছে-এই তথ্যে কিছুটা নড়ে চড়ে বসেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। নগরীতে প্রতিদিন ৩৫ কোটি লিটারের বেশি পানি সরবরাহ করা হচ্ছে ৬ হাজার কিলোমিটার পাইপের মাধ্যমে। নানা ত্রুটি বিচ্যুতির কারণে পানি সরবরাহের পাইপগুলো হয়ে উঠতে পারে করোনা সংক্রমণের অন্যতম মাধ্যম। আর এই অবস্থায় করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ওয়াসা শুরু করেছে ক্লোরিনের অতিরিক্ত ব্যবহার।

চট্টগ্রাম ওয়াসা ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, ক্লোরিনের লিমিট বাড়িয়ে দিয়েছি কারণ, যদি কোন কারণে কোন সমস্যা থাকে সেটা যেন না হয়।

ওয়াসা কর্মকর্তারা জানান, আগে প্রতি লিটার পানিতে দশমিক শূন্য দুই থেকে শূন্য আট শতাংশ হারে ক্লোরিন মেশানো হতো। এতে নগরীর শেষ প্রান্তের এলাকা হিসাবে পরিচিত পতেঙ্গা, হালিশহর, পাহাড়তলী এবং বাকলিয়া এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ছিলো অনেকটা দূরহ। সেখানকার পানিতে ক্লোরিনের অস্তিত্ব থাকতো না। ওইসব এলাকার পানিতে পাওয়া যেতো নানা রকম ব্যাকটেরিয়া। কিন্তু করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে বর্তমানে শহরের শেষ প্রান্তের পানিতে দশমিক এক পাঁচ থেকে দুই শূন্য শতাংশ ক্লোরিন নিশ্চিত করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন,  ক্লোরিনের মাত্রাটা যেন পয়েন্ট দুই ঠিক করা হয়। সাথে সাথে আমরা ২৪০টা স্যামপ্লিং করি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিতে ক্লোরিনের অতিরিক্ত ব্যবহার মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে নগরীর জামালখান, আন্দরকিল্লা, চকবাজার, বাগমনিরাম, চান্দগাঁও এলাকার মতো শহরের মধ্যভাগের বাসিন্দাদের কাছে সরবরাহকৃত পানিতে ক্লোরিনের মাত্রা বেশি অনুভূত হচ্ছে। এ অবস্থায় ক্ষতির পরিমাণ কমাতে পানিতে ক্লোরিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার কোনো বিকল্প নেই।

পানি ও নদী গবেষক প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী বলেন, অন্যান্য জীবাণু মারার সাথে এই করোনা যে হবে না এটা আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির মধ্যে ৮২ শতাংশ হালদা নদী থেকে উত্তোলিত আর বাকি ১৮ শতাংশ পানি গভীর নলকূপের মাধ্যমে তোলা হয়। আর নগরীতে ওয়াসার ৭৩ হাজার আবাসিক এবং বাণিজ্যিক গ্রাহক রয়েছে।