নিউজটি শেয়ার করুন

করোনায় কেড়ে নিল নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক ও আলোকচিত্রি স্বপন হাই এর প্রান

দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতা রোগে ভুগছিলেন তিনি।

দৈনিক মানবজমিনের সিনিয়র ফটোজার্নালিস্ট স্বপন হাই গেল কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বসবাস করে আসছিলেন।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যে উন্নতর চিকিৎসার জন্য এখানে পড়েছিলেন, সেই চিকিৎসাবস্থায় নতুন করে আঘাত হানা করোনা-ভাইরাসের কাছে হেরে গেলেন প্রবাসিদের প্রিয় মুখ স্বপন।

সোমবার(৩০ মার্চ) দুপুর ১২ টা ৫০ মিনিটে নিউ ইয়র্কের কুইন্স হসপিটালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

তার বড় ভাই আবদুল মতিন গণমাধ্যম ও স্বপন হাইয়ের সহকর্মীদের বিষয়িট নিশ্চিত করেছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভোগা আমার ভাইটি বাঁচার আকুতি করেছিলেন। সেই জন্য প্রবাসী সাংবাদিকরা তার কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য একটি ফান্ডরেইজিং করেছিল। সেই অর্থ দিয়ে তাকে ভারতে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু নিয়তির কাছে হেরে গেলাম আমরা।”

সবার প্রিয় স্বপন কিডনি রোগে লাইফ-সাপোর্ট থেকে ফিরলেও এবার করোনায় তাকে কেড়ে নিয়েছে।

উল্লেখ্য, গেল ৬ মার্চ শুক্রবার নিউ ইয়র্কের প্রিয় মুখ ও ঢাকার একসময়ের প্রতিভাবান ফটো সাংবাদিক স্বপন হাই-এর পাশে দাঁড়িয়েছিল প্রবাসী সাংবাদিকরা। দ্বিধাবিভক্তি ভুলে সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে তার জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছিলো তারা।

কনসার্ট ফর সাংবাদিক স্বপন ব্যানারে আয়োজিত এ মানবিক সম্মিলনে অংশ নিয়ে অসুস্থ সহকর্মীর পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেছিলেন সবাই। এতে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক স্বপন।

দীর্ঘদিন দিন ধরে কিডনি ও হার্ট জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। মাত্র ৪ বছর আগে ‘স্বপন হাই’র বাইপাস (হার্ট সার্জারী) করা হয়। উচ্চ ডায়াবেটিক থাকায় গেল ১ বছর আগে তার দুটো কিডনিই অচল হয়ে যায়। যার ফলে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন চলছে সাংবাদিক স্বপন হাই’র ডায়ালিসিস।

এরই মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বপন হাই। দ্রুত ভর্তি করানো হয় লং-আইল্যান্ড জুইশ হাসপাতালে। সেখানে কয়েকদিন অচেতন ছিলেন তিনি। যদিও সবার দোয়ায় এ যাত্রায় বেঁচে যান দীর্ঘদিন ধরে নিউ ইয়র্কে বসবাসকারি প্রবাসী এ সাংবাদিক।

অবশেষে কিডিনি প্রতিস্থাপন না করেই চলে গেলেন মৃত্যুযবনিকার ওপারে। স্বপনের জন্য প্রবাসি সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় নিজে অসুস্থ শরীরে উপস্থিত ছিলেন। বাঁচার আকুতি জানিয়ে প্রবাসি কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন’সহ যারা বিনামূল্যে তার জন্য কনসার্টে অংশ নিয়েছিলেন; তাদের প্রতি সমবেদনা এবং কৃতজ্ঞতাও জ্ঞাপন করেছিলেন।

হঠাৎ দু’দিন আগে জ্বর-সর্দি ও নিউমোনিয়া নিয়ে কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি স্বপন মারা গেলেন মরণব্যাধি করোনার থাবায়।

এ খবরে নিউ ইয়র্ক প্রবাসি কমিউনিটি ও সাংবাদিক সমাজে নেমে আসে শোকের ছায়া।