সিপ্লাস প্রতিবেদক:
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণজনিত সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একই সাথে করোনা ভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিগারেট বিক্রির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আহবান জানিয়েছে তামাক বিরোধী সংগঠন বিটা। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি এ আহবান জানানো হয়।
বি ৃতিতে বলা হয়েছে, পরিতাপের বিষয় এই যে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে দু’টো বহুজাতিক তামাক কোম্পানী করোনা পরিস্থিতিতে উৎপাদন কার্য পরিচালনার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনও গ্রহণ করেছে এবং শিল্প মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সব বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছে। তামাক করোনা সংক্রমণ ”সহায়ক পন্য”। এটি কোন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ধূমপনের কারণে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়া এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। শিল্প মন্ত্রণালয় এর এমন পদক্ষেপ জনমনে বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশে তিন কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে এবং প্রায় চার কোটি ১০ লাখ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ নিজ বাড়িতেই পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তামাকের ক্ষতির শিকার এই বিপুল প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠি বর্তমানে মারাত্বকভাবে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশে মোট জনগোষ্ঠির ৪৯ শতাংশই তরুণ। অর্থাৎ তরুণরাই এখন বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল নিয়ামক শক্তি। এ বিশাল জনগোষ্ঠিকে করোনা পরিস্থিতি থেকে মুক্ত রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া জরুরী। আরো উল্লেখ্য, তামাকের স্বাস্থ্য ক্ষতি বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন।
করোনা মোকাবেলা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সিগারেট উৎপাদন, বিপণন সংক্রান্ত শিল্প মন্ত্রণালয় এর নির্দেশনা প্রত্যাহার এবং সাময়িকভাবে সিগারেট বিক্রি বন্ধে তামাক বিরোধী সংগঠন বিটা ( বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব থিয়েটার আর্টস), বেসরকারী উন্নয়ণ সংস্থা ইলমা এবং ক্যাব (কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) বিবৃতি প্রস্তাবের মাধ্যমে জোর দাবী জানানো হচ্ছে। ।








