বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহ ধরে কোভিড-১৯ এ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ৯০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।
এই হিসাবে প্রতি ঘণ্টায় করোনাভাইরাস প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে ২৪৭ জনের, প্রতি ১৫ সেকেন্ডে একজনের।
কোভিড-১৯ এ যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত এক লাখ ৫৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য ‘সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে’ বলে দাবি করেছেন।
“মানুষ মারা যাচ্ছে, এটা সত্য। এটা এরকমই। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, আমরা সম্ভব সব কিছু করিনি। যতটুকু আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, সংক্রমণ ততটুকু নিয়ন্ত্রণে আছে। এটি একটি ভয়াবহ মহামারী,” এক্সিওস নিউজ ওয়েবসাইটকে তিনি এমনটাই বলেছেন।
শনাক্ত রোগী ও মৃত্যুতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনেরো প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই ‘করোনাভাইরাসকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি’ বলে তার সমালোচকরা অভিযোগ করে আসছেন।
সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন ও বিধিনিষেধের বিরোধী এ ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট অর্থনীতি সচল রাখতে আঞ্চলিক গভর্নর এমনকী নিজ মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছিলেন। ৬৫ বছর বয়সী এ প্রেসিডেন্ট ও তার মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যও পরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।
জাতিসংঘের মানব বসতি কর্মসূচির হিসাব অনুযায়ী, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ১০ কোটিরও বেশি মানুষ বিভিন্ন বস্তিতে থাকেন। দরিদ্র এ মানুষদের অধিকাংশই বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করায় লকডাউনের বিধিনিষেধে এদের বেঁধে রাখা যায়নি।
যে কারণে লাতিনের দেশগুলোতে প্রথম দিকে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা না গেলেও এখন আক্রান্ত ও মৃত্যু হু হু করে বাড়ছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে বিশ্বের যেসব দেশ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে হচ্ছিল, এখন সেসব দেশেও শনাক্ত রোগীর পরিমাণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া, জাপান, হংকং, বলিভিয়া, সুদান, ইথিওপিয়া, বুলগেরিয়া, বেলজিয়াম, উজবেকিস্তান ও ইসরায়েলে দৈনিক শনাক্তে নিত্যনতুন রেকর্ড বোঝাচ্ছে- মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হতে এখনও অনেক সময় বাকি।
অস্ট্রেলিয়াও বুধবার করোনাভাইরাসে একদিনে রেকর্ড মৃত্যু দেখেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এ ২৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

