সিপ্লাস ডেস্ক: চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে মহামারী সৃষ্টি করা করোনাভাইরাস সংক্রমণে বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা ৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর সংখ্যা রোববার হতাশাজনক এই মাইলফলকটি পার হয় বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান।
এর মধ্যে প্রায় এক চতুর্থাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। শনিবার দেশটিতে কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যা এক লাখ ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যু, উভয় দিকে বিশ্বে শীর্ষে আছে দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্রের পর ৭৮ হাজার ৭৭২টি মৃত্যু নিয়ে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে আছে ব্রাজিল আর ৪৫ হাজার ৩৫৮ মৃত্যু নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে যুক্তরাজ্য।
১০ মে-র পর থেকে শনিবার সবচেয়ে বেশি, ৭৩৬০ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।
জুলাইয়ে এ পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন ৪ হাজার ৮০০ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা জুনের দৈনিক গড় ৪ হাজার ৬০০ থেকে কিছুটা বেশি। এর মানে চলতি মাসে প্রতি ঘণ্টায় ২০০ জন বা প্রতি ১৮ সেকেন্ডে একজনের মৃত্যু হচ্ছে।
এ হিসাব ১ জুলাই থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত গড়ের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
জন হপকিন্সের তথ্য অনুযায়ী অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রোববার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বিশ্বে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ২ হাজার ৩১৫ জন আর মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৪৩ লাখ ১ হাজার ১২৪ জন।
নতুন এ করোনাভাইস শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায় যা বিশেষভাবে বয়স্কদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক, তবে মৃতদের মধ্যে পূর্ণবয়স্ক ও শিশুরাও রয়েছে।
নতুন ভাইরাসটিতে প্রথম মৃত্যু নথিবদ্ধ হয়েছিল ৯ জুন চীনের উহানে। শহরের একটি কাঁচা বাজারের নিয়মিত ক্রেতা ছিলেন ৬১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি। এই কাঁচা বাজারটিই নতুন করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের উৎস হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
এরপর বিশ্বজুড়ে মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর সংখ্যা অত্যন্ত প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ ম্যালেরিয়ার বার্ষিক মৃত্যুর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া ২০১৮ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ওই বছর এইডস রোগে গড়ে প্রতি মাসে ৬৪ হাজার জনের আর ম্যালেরিয়া ৩৬ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছিল, সেখানে কোভিড-১৯ এ গড়ে প্রতি মাসে মৃত্যু হচ্ছে ৮৬ হাজার জনের।
এরপরও এসব পরিসংখ্যানে সম্ভবত মহামারীর পুরো চিত্রটি উঠে আসছে না বলে ধারণা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। অনেক দেশেই প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নথিবদ্ধ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে বেশি বলে মনে করেন তারা।

