নিউজটি শেয়ার করুন

করোনায় সাতকানিয়া পৌরসভা কি আদৌ লকডাউন হবে? মেয়র বলছেন লজিস্টিক সাপোর্টের অভাব

জোবাইর রিফাত, সাতকানিয়া থেকে: গোটা বাংলাদেশ জানে দেশে করোনাক্রান্ত প্রথম মৃত ব্যক্তি সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের ইছামতী আলীনগরের বাসিন্দা। গতকাল তার সংস্পর্শে আসা ১৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের ৩৯৯টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস এবং ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সাতকানিয়াবাসী পৌরসভা লকডাউনের আহ্বান জানাচ্ছেন।

তারা বলছেন, পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ড লকডাউন করা হলে ১৭ টি ইউনিয়ন থেকে করোনা ছড়ানোর শংকা কমে আসবে। যেহেতু ৯টি ওয়ার্ড পাশাপাশি লাগানো তাই সংক্রমণের ভয়টা পৌরসভাবাসীর মধ্যে চরমে পৌঁছেছে। তাছাড়া গেলো ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত ২ ব্যক্তি সাতকানিয়া পৌরসভার ১ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের। তাদের মধ্যে একজন নারায়ণগঞ্জফেরত হলেও অন্যজন সাতকানিয়ায় থাকে। যিনি পেশায় একজন ঠিকাদার।

সরেজমিনে আজও দেখা যায় এতসবের পরও সাতকানিয়া পৌরসভার হাট-বাজারগুলোতে গিজগিজ করছে মানুষ। নেই কোনো সামাজিক দূরত্ব বা প্রোটেকশন ব্যবস্থা। স্টেশন চত্বর ও পাড়া মহল্লার অলি-গলিজুড়ে মানুষে মানুষে সয়লাব।

নানামুখী প্রশ্ন আর আলোচনা সমালোচনার পর পৌর মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের তার ফেসবুক ওয়ালে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানিয়েছেন আগামীকাল (১৪ এপ্রিল) লকডাউনের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্তে যাবেন।

যোগাযোগ করা হলে মেয়র জোবায়ের মুঠোফোনে সিপ্লাসকে বলেন, “একই সময়ে গোটা পৌরসভা লকডাউন করা সম্ভব হবে কি না সেটা ভাববার বিষয় আছে৷ আর করাও সম্ভব না। পর্যাপ্ত লজিস্টিক সাপোর্টের (মানুষের খাদ্য সামগ্রী,অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা) অভাব আছে বলে জানান তিনি। তাহলে আপনি কি মনে করেন এখনও হাতে সময় আছে?

মেয়র বলেন, অতিবাহিত প্রতিটা সময়ই মূল্যবান। তবে যথাযথ সিদ্ধান্ত কাল নেয়া হবে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর-এ-আলম বলেন, ইতিমধ্যে পৌর এলাকায় ২ জন করোনা সনাক্ত হয়েছে। তাছাড়া এখানে যে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে, সেটি শতভাগ নিশ্চিত। তবে আজকের চট্টগ্রামের রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উল্লেখ্য সাতকানিয়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের বসবাস।