সিপ্লাস ডেস্ক:নাগরিকদের করোনা টিকার তৃতীয় ডোজ দেয়া শুরু করেছে ইসরায়েল৷ বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে করোনা টিকার তৃতীয় ডোজ দিচ্ছে ইসরায়েল। শুক্রবার ষাটোর্ধ্ব নাগরিকদের জন্য এই কার্যক্রম চালু করেছে তারা৷
ফাইজার- বায়োনটেকের টিকার তৃতীয় ডোজ নেওয়ার মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্তস্যোগ৷ এর ফলে দ্রুত ইসরায়েলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরবে বলে আশা করেন তিনি ৷
অবশ্য গত জুলাইতেই গুরুতরভাবে রোগ প্রতিরোধহীন মানুষদের তৃতীয় ডোজ টিকার অনুমোদন দেয় ইসরায়েল৷
ইসরায়েল সবার আগে তৃতীয় ডোজ টিকার অনুমোদন দিলেও এই বিষয়ে এখনও পূর্ণাঙ্গ কোন গবেষণা প্রকাশিত হয়নি৷ এক্ষেত্রে তারা মূলত নির্ভর করছে ফাইজার-বায়োনটেকের তথ্যের উপরে৷ তাদের দাবি তৃতীয় ডোজ টিকা নিলে তা কোভিডের ডেলটা ধরনের বিরুদ্ধে ভালো কাজ করবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদন না দেওয়া সত্ত্বেও তৃতীয় ডোজ চালুর বিষয়ে জেরুসালেম এর হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারি বিশেষজ্ঞ হাগাই লেভিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘‘সিদ্ধান্তটি বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে৷ এটা যুক্তিনির্ভর, মৌলিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নির্ভর নয়৷ কিন্ত তারপরও এই সিদ্ধান্ত ঠিক আছে৷”
জনগণের একটি বড় অংশকে টিকা দেওয়ার পর জুনে জনসমাগম সহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ তুলে নেয় ইসরায়েল৷ তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণআবারও বেড়ে যাওয়ায় মাস্ক পরা আবারও বাধ্যতামূলক করেছে সরকার৷
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও-ডাব্লিউএইচও করোনা টিকার তৃতীয় ডোজ প্রদানের অনুমোদন এখনও দেয়নি ৷এমন অবস্থায় ইসরায়েলের তৃতীয় ডোজ টিকা চালুর খবরে শুক্রবার ডাব্লিউএইচও এর মুখপাত্র ব্রুস আইওয়ার্ড সাংবাদিকদের বলেন, টিকা সরবরাহকারী, উৎপাদনকারী দেশ বা যেসব দেশ টিকা দিয়ে ফেলেছে তাদের এখন উচিত সব দেশের জনসংখ্যার অন্তত দশ শতাংশকে টিকাদানে সহায়তা করা৷ ‘‘এই মহামারি থেকে বের হওয়ার জন্য এটাই সবচেয়ে জরুরি,’’ বলেন তিনি৷
ইসরায়েল সরকার গত মাসে ১২ বছরের উপরে সবাইকে টিকা দেওয়ার ঘোষণা দেয়৷ চলতি সপ্তাহে আরেক ঘোষণায় বলা হয়েছে, যারা পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সি এবং গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ১ আগস্ট থেকে তাদেরকেও টিকা দেওয়া যাবে৷

