সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের পটিয়ার জিরি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদনগর এলাকায় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী হামলায় মারা যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মো. বেলাল উদ্দিনের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে।
গত দুদিন ধরে লাশ পড়ে থাকলেও প্রতিপক্ষ টাকার বিনিময়ে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের পাঁয়তারা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত বেলাল উদ্দিনের করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। এরপরও ওসি হামলাকারীদের পক্ষ হয়ে কাজ করছেন বলে নিহত বেলালের পরিবার অভিযোগ তুলেছেন ।
নিহতের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম জানান, আমার ভাই শুক্রবার মারা যাওয়ায় পর আমি পটিয়া থানায় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও আমার অভিযোগটি গ্রহণ করাতে পারিনি। আঘাতজনিত কারণে আমার ভাইয়ের লাশটি ফুলে গেছে। তাই লাশটি একটি শীতাতপ লাশবাহী গাড়িতে রাখা হয়েছে চমেক হাসপাতালের মর্গের সামনে। সকাল হতে হামলাকারীদের লোকজন হাসপাতালে এসে লাশটি ময়নাতদন্ত ছাড়া বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদেরকেও নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে ওরা। তাই উদ্বেগ উৎকন্ঠায় আছি।
এব্যাপারে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। তবে ওনার যেহেতু করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তাই রির্পোটটি হাতে পেলেই ময়নাতদন্তের জন্য কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবে বলে জানান তিনি।
পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানান, জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় লিখিত অভিযোগটি কালারপুল পুলিশ ফাঁড়ির কর্তব্যরত অফিসারের তদন্তে দায়িত্ব ছিল। কেন তিনি তদন্ত করেননি তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিহতের বড় ভাই শুক্রবার থানায় এসে জানানোর পর আমি একটি লিখিত দিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি। আমার যা করার করেছি। বাকিটা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করবেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বেলাল গত ৫ মাস আগে দেশে আসেন। জায়গা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ৬ জুন সন্ধ্যায় মোহাম্মদনগর এলাকায় তার বাড়ির সামনে সন্ত্রাসি আবদুর রউফ ভুট্টো তার সহযোগীদের নিয়ে বেলালের উপর লোহার রড ও ইট দিয়ে আঘাত করে। হামলায় গুরুতর আহত বেলালকে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা সেবা দিতে থাকে। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে চাইলে সন্ত্রাসি ভুট্টো তার লোকজন দিয়ে হাসপাতালে নিতে বাধা দেয়। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। তখন তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। এরপর দিনভর বেশ কয়েকটি হাসপাতালে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। রাতে চট্টগ্রামের ফিল্ড হাসপাতাল নেওয়ার পথেই ভোর ৬টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বেলাল।








