সিপ্লাস ডেস্ক: দেশে নতুন করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যা যখন দিন দিন বাড়ছে, ঠিক তখনই শনাক্তকরণ পরীক্ষায় ফি আরোপ করাকে বৈষম্যমূলক, অমানবিক ও আত্মঘাতী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
বুধবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করেছে যে, সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর পরীক্ষা অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর সামর্থ্যরে বাইরে চলে গেছে; পরীক্ষার সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে কমে গেছে, সেই সঙ্গে কমেছে শনাক্তের সংখ্যাও। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি যেমন বেড়েছে, মহামারি নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় দেশে সংক্রমণের প্রকৃত অবস্থার প্রতিফলন না ঘটার আশংকাও জোরদার হয়েছে। তাই অবিলম্বে আরোপিত ফি প্রত্যাহারের পাশাপাশি কার্যকরভাবে মহামারি নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষা করার সক্ষমতা ও পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত ৩০ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোভিড শনাক্তকরণ পরীক্ষায় ফি আরোপের সিদ্ধান্ত জানায়। সংকটকালীন সময়ে এই অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্তে সরকার জনগণকে পরীক্ষা করতেই অনুৎসাহিত করছে কিনা এমন প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এই পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক ও অমানবিক। যারা এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তাদের জন্য আরোপিত ফি যৎসামান্য মনে হতেই পারে; কিন্তু যারা এক বেলা নিয়মিত খাবারেরই সংস্থান করতে পারেন না, তাদের জন্য এই দুশো টাকাও বিশাল এক বোঝা। মূলতঃ দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষকে পরীক্ষায় নিরুৎসাহিত করতেই এ সিদ্ধান্ত কিনা তা ভাবতে হবে। এমন বৈষম্যমূলক ও অমানবিক সিদ্ধান্ত অগ্রহণযোগ্য।
তিনি আরো বলেন, মহামারিকালে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা বলে কিছু নেই। তাহলে কি সরকার চায়, যারা পরীক্ষা করবে তারা সবাই আক্রান্ত হোক! অথচ দেশে তথা বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ আক্রান্তের বড় একটা অংশ উপসর্গবিহীন হওয়ায় আরো অনেক বেশি সংখ্যক পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তকৃত রোগীকে দ্রুত বিচ্ছিন্নকরণে বিশেষজ্ঞরা জোর তাগিদ দিচ্ছেন। টিআইবি মনে করে, ফি আরোপের এই সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী এবং মহামারি মোকাবিলায় সরকারের স্বদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, পৃথিবীর যে কয়েকটা দেশে সবচেয়ে কম পরীক্ষা করা হচ্ছে, দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশ তার অন্যতম। তার উপর ফি আরোপ করে পরীক্ষার সংখ্যাই কমিয়ে দেওয়া হলো, যাতে পরীক্ষার আওতার বাইরে চলে যাচ্ছেন দেশের একটা বিরাট জনগোষ্ঠী।








