নিউজটি শেয়ার করুন

করোনা পাদুর্ভাবে চকরিয়ায় সন্ত্রাসীর ভাংচুর ও লুটপাট

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাজিয়াং গ্রামে পূর্বশত্রুতার জের ধরে একটি ফার্নিচারের দোকান ভাংচুর করেছে একটি চক্র। ভাংচুর করার পর ওই দোকানে ব্যাপক লুটপাট চালায়।এতে অন্তত ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় দোকানী ।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগি মরহুম মাওলানা ইদ্রিছ আহমদ খাঁর পুত্র নুরুল আবছার জানান, পৌর শহরের বশির আহমদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এ কর্মজজ্ঞ চালায়।

থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাজিয়াং সীমান্তে উত্তর লোটনীস্থ সেলিমের মুদি দোকানের সামনে অবস্থিত কাঠ ব্যবসায়ী নুরুল আবচারের ফার্ণিচারের দোকান। দীর্ঘদিন ধরে নুরুল আবচার ওই ফার্ণিচারের দোকানে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।

গত ২২ এপ্রিল নুরুল আবচারের পিতা মৌলানা ইদ্রিস আহমদ মৃত্যুবরণ করেন। সেই সুযোগে পরের দিন ফার্ণিচারের দোকান সংলগ্ন কিছু স্থানীয় ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী বর্তমানে করোনার মহামারিতে এলাকায় জনশূন্যতার সূযোগে ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে জনৈক বশির আহমদের নেতৃত্বে ১০/১২ জন ভাড়াটিয়া ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়।

তারা গুড়িঁয়ে দেয় সেমিপাকা বিল্ডিং। যার আনুমানিক মূল্য হবে চার লক্ষ টাকা এবং ক্রেতাদের অর্ডার দেয়া প্রায় ৮ লাখ টাকা মূল্যের তৈরি করা আসবাব পত্রও লুটে নেয় লুটপাটকারিরা। নুরুল আবচারের অভিযোগ, দিন দিন ব্যবসার উন্নতি দেখে স্থানীয় ভূমিদস্যু মৃত ইয়াকুব মেস্ত্রীর পুত্র বশির আহমদ (৪৫), তার ছেলে মো. পারভেজ(২৩) ও মো. সাইয়েদ(২০)সহ ১০/১২ জন সন্ত্রাসী পূর্ব শত্রুতার জেরে ওই প্রতিষ্ঠানে হামলা করে। এতে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে তারা।

দোকানের মালিক নুরুল আবচার আরও বলেন- হাজিয়াং সীমান্তে উত্তর লোটনীস্থ সেলিমের মুদি দোকানের সামনে আমার মরহুম পিতা মৌলানা ইদ্রিস আহমদের ১ শতক জায়গার ভেতরে ব্যবসার উদ্দেশ্যে একটি ফার্ণিচারের দোকান নির্মাণ করি।

সেখানে অদ্যবধি আমার ব্যবসা চলমান রয়েছে। আমার ব্যবসার প্রতি ইর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী বেশকিছুদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে আমার ব্যবসা প্রতিষ্টান ধ্বংস করার পরিকল্পনায় মেতে উঠে। তিনি বলেন, আমার বাবার মৃত্যুর পরের দিন রাতে আমার ব্যবসা প্রতিষ্টান ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় এবং আমার বেশকিছু ফার্ণিচার নিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। আমরা ঘটনা জানতে চাইলে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালাতে আসে। আমরা প্রানে বাঁচতে চকরিয়া থানায় বিষয়টি অবহিত করি। অল্প সময়ের মধ্যে চকরিয়া থেকে একদল পুলিশ ঘটনাস্থন পরিদর্শন করতে আসে। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীদের আচার আচরণের বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে বেশ কয়েকবার অবহিত করেছিলাম। ঘটনার বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি এবং বাদীর পক্ষ থেকে একটি এজাহার পেয়েছি। দ্রুত তদন্ত পূর্বক অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।