রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের হালিশহরের এক করোনা আক্রান্ত রোগীর দেওয়া ফোন নাম্বার মিলে যাওয়ায় রাতব্যাপী হয়রানির শিকার হতে হয়েছে এক দিনমজুরকে।
তার কোন উপসর্গ নেই, নামেও মিল নেই, শুধু হালিশহরের এক করোনা আক্রান্ত রোগীর দেওয়া মোবাইল নাম্বার মিলে গেছে তার নাম্বারের সাথে। আর এই নাম্বার ট্রাকিং করেই পাওয়া যায় এই নিরীহ দিনমজুরকে। এতেই রাতব্যাপী চরম বিপত্তিতে পড়ে যান তিনি।
পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাহায্যে এই বিপত্তি থেকে নিস্তার পান তিনি।
জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার ৫৫ বছর বয়সী এক লোক চট্টগ্রাম বিআইটিআইডিতে করোনাভাইরাসের পরীক্ষায় নমুনা জমা দেয়। এই সময় তিনি তার হালিশহরের ঠিকানার পাশাপাশি দিয়েছিলেন একটি মুঠোফোন নাম্বার।
শুক্রবার (৮ মে) রাতে তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা পাওয়া যায়। কিন্তু এরপর থেকে তার সেই মোবাইল নম্বরে ফোন করে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। গভীর রাতে সেই মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করে জানা গেল মুঠোফোনের অবস্থান রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ক্ষেত্রবাজারের আশেপাশের এলাকায়।
রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের কাছে খবর পেয়ে সরফভাটা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ট্র্যাকিংয়ে দেখানো অবস্থানে গিয়ে দেখেন ভিন্ন চিত্র। ট্রাকিংয়ে পাওয়া মোবাইল নাম্বারটি মিল থাকলেও মিল নেই তার নাম ও পেশার।
রাঙ্গুনিয়ায় পাওয়া লোকটি পেশায় দিনমজুর। এই লোক নমুনা দেওয়া তো দূরের, শহরেই যায়নি অন্তত কয়েকমাস।
করোনাভাইরাসের নমুনার কথা শুনে ওই দিনমজুরই শুধু নয়, ঘুম ভেঙে ছুটে আসা আশেপাশের লোকেরাও অবাক এমন ঘটনায়! এদিকে সরফভাটায় করোনারোগী পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে রাঙ্গুনিয়া জুড়ে। অনেকেই চেয়ারম্যানকে তার বাড়িতে যেতে দেখে তার নাম ঠিকানাও প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এতে রাতভর চরম বিপত্তিতে পড়ে যায় সে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি নিশ্চিত করলে অবশেষে এই বিপত্তি থেকে মুক্তি পায় এই দিনমজুর।
স্থানীয়রা জানায়, শামসুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি এলাকাতেই থাকেন। দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন।
সরফভাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘রাতের দেড়টার দিকে থানা থেকে দেওয়া ওই নাম্বারে কল করলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তার মোবাইল চালু করলে ফোন দিয়ে তার বাড়িতে যাই। ওখানে গিয়ে দেখি লোকটির নামের সাথে ওই করোনা রোগীর মিল নেই। এমনকি তিনি বেশ কয়েক মাস ধরে শহরেও যাননি এমনকি করোনা পরীক্ষাও করাননি। তবু আমরা সামশুল ইসলামের নমুনাও পরীক্ষা করবো। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসা পর্যন্ত উনাকে সবার থেকে আলাদা থাকতে বলেছি আমরা।’
রাঙ্গুনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাঈল হোসেন জুয়েল বলেন, ‘ধারণা করছি বিআইটিআইডিতে যিনি নমুনা দিয়েছেন তিনি নমুনা দেওয়ার সময় ফরম পূরণ করতে গিয়ে নাম্বার ভুল লিখেছেন। ফলে এই বিভ্রাট তৈরি হয়েছে।”
এদিকে রাঙ্গুনিয়ায় এক নারীর করোনা পজিটিভ হওয়ার পর ইউএনও সহ উপজেলার ১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তবে তাদের নমুনায় করোনা পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাজিব পালিত।
করোনা আক্রান্ত রোগীর দ্বিতীয়বার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এখন পর্যন্ত রাঙ্গুনিয়ায় ৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১ জনের করোনা পাওয়া যায় এবং কয়েকজনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল অপেক্ষমান রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।








