নিউজটি শেয়ার করুন

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ: সীমান্তে কড়াকড়ির দাবি জানালেন মানবাধিকার কমিশনের আমিনুল হক বাবু

সিপ্লাস ডেস্ক: ভারতে করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশটির সঙ্গে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের গভর্নর আমিনুল হক বাবু। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে আমিনুল হক বাবু বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল ভারতে টানা চতুর্থ দিনের মতো তিন লাখেরও বেশি রোগী শনাক্ত ও দুই হাজারের বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আগের ২৪ ঘণ্টায় তিন লাখ ৪৯ হাজার ৬৯১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে।
তিনি বলেন, মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে কোথাও একদিনে এত রোগী আর শনাক্ত হয়নি। নতুন শনাক্তদের নিয়ে ভারতে মোট কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা এক কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ওই একই সময় দেশটিতে আরও দুই হাজার ৭৬৭ জনের মৃত্যু হওয়ায় করোনাভাইরাসজনিত কারণে মৃতের মোট সংখ্যা এক লাখ ৯২ হাজার ৩১১ জনে দাঁড়িয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনের নেতা আমিনুল হক বাবু বলেন, ভারতে হাসপাতালগুলো রোগীতে উপচে পড়েছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক হাসপাতাল রোগী ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। হাসপাতালের বাইরে ট্রলিতেই বিনা চিকিৎসায় অনেক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। অপরদিকে হাসপাতালগুলোতেও অক্সিজেন অভাবে রোগীরা দমবন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছে। সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবাংলায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
তিনি বলেন, এই অবস্থায় সীমান্তবর্তী দেশ হিসেবে বাংলাদেশও মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। এমনিতেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে আমরা বেশ বেকায়দায় রয়েছি। তার উপর ভারতের এই নতুন ধরণ যদি দেশে ছড়িয়ে পড়ে তবে নানা সীমাবদ্ধতার আমাদের অবস্থা কী হবে তা সহজেই অনুমেয়।
এখনই যদি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কড়াকড়ি করা না যায় তবে আমাদের দেশও মৃত্যুপুরী হতে বেশি সময় নেবে না। যদি বর্ডার পুরো বন্ধ না করা যায় তাহলে যারা ভারত থেকে আসবে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে। এটার বিকল্প কিছু নেই। আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও যেভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন সেভাবে সীমান্তে কড়াকড়ির বিষয়েও তিনি যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।’ যোগ করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি আমিনুল হক বাবু।