চট্টগ্রাম বন্দরের অধীনে থাকা কর্ণফুলী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বন্দরের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদেরকে তিন মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্ট স্থানের পানি, গ্যাস ও বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য ১২ মে দিন ধার্য করেন আদালত। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
তলবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) উপস্থিত হওয়ার পর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে চেয়ারম্যানের পক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরানুল কবীর। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
পরে আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরানুল কবীর বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের অধীনে থাকা কর্ণফুলী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আমাদের (বন্দর কর্তৃপক্ষ) তিন মাসের সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্ট স্থানের পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া উচ্ছেদ কার্যক্রমে সহায়তায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ১২ মে দিন ধার্য রেখেছেন আদালত। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ২০১৬ সালে রায় দিয়েছিলেন আদালত। এসব স্থাপনা উচ্ছেদে আমরা বার বার আদালতে আসছি। সর্বশেষ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পক্ষ থেকে তার অধীনের জায়গাগুলো কিছু উচ্ছেদ করেছে বলে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বন্দর এলাকায় যে জায়গা সেটা তারা উচ্ছেদ করতে পারবে না। কারণ ওখানে বন্দরের কর্তৃত্ব। তখন আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত বন্দর চেয়ারম্যানকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে বললে তারা সময় চেয়ে বলেন ৫৮ একর সম্পত্তির মধ্যে ২০ একর উচ্ছেদ করে ফেলছি, ছয় মাস সময় দেন। পরে আদালত তিন মাস সময় দিয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।

