নিউজটি শেয়ার করুন

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও ফুটবল টুর্নামেন্ট হবে: প্রধানমন্ত্রী

শনিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ (বালক) অনূর্ধ্ব সতেরো-২০১৯ এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালিকা) অনূর্ধ্ব সতেরো-২০১৯ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বালকদের খেলায় চট্টগ্রামকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশাল। আর বালিকাদের খেলায় টাইব্রেকারে ঢাকাকে হারিয়ে সেরা হয়েছে খুলনার মেয়েরা। প্রথম পর্বে ছেলেদের খেলায় উপস্থিত হতে না পারলেও মাঠে বসে ঢাকা ও খুলনার মেয়েদের খেলা দেখেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “অনূর্ধ্ব সতেরো ফুটবল টুর্নামেন্ট করতে পারলাম। পাশাপাশি আমরা এখন আন্তঃকলেজ ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা সেটারও ব্যবস্থা করছি। তাহলে ছোট থেকে যারা খেলাধুলা করছে তারা একটা খেলার সুযোগ পাবে। খেলাধুলার প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তাদের চরিত্র গঠন, সুস্বাস্থ্যের অধিকার এবং মেধাবিকাশের সুযোগ হবে। আগামী দিনের পৃথিবীতেও একটা স্থান করে নিতে পারবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের শিশু-কিশোররা অত্যন্ত মেধাবী। আমরা সেই মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিতে চাই। আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি থেকে দূরে রেখে ধীরে ধীরে তাদেরকে উপযুক্ত নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। লেখাপড়া শেখার পাশাপাশি ক্রীড়া সংস্কৃতি চর্চা একান্তভাবে অপরিহার্য। এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা সুপ্ত মেধা বিকাশের সুযোগ পায়, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হল, দেশের জন্য গৌরব নিয়ে আসে।”

তরুণ দর্শনার্থী ও খেলোয়াড়দের কাছে প্রধানমন্ত্রী নিজের পরিচয় দেন ক্রীড়া পরিবারের একজন সদস্য হিসাবে।

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর ক্রীড়াকে প্রসারিত করতে আমার ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল সবাই ক্রীড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। আবাহনী ক্লাব থেকে শুরু করে আজকে আধুনিক ফুটবল ক্লাবগুলো শেখ কামালের হাতে গড়া। আমিও বলতে গেলে একটা স্পোর্টস ফ্যামিলির সদস্য।

“ছোটবেলা থেকে জাতির পিতা এদেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন। ছাত্রজীবনে তিনিও একজন ফুটবলার ছিলেন। আমার দাদাও ফুটবল খেলতেন। আমার ভাইয়েরা ফুটবল খেলতেন, আমার নাতিপুতিরাও ফুটবল খেলে।”

বালিকাদের মূল পর্বের খেলায় খুলনা ও ঢাকা উভয় পক্ষ প্রতিপক্ষের জালে দুটি করে গোল করায় প্রতিযোগিতা জমে ওঠে। অতিরিক্ত সময়ে দুই পক্ষ থেকেই গোলের জন্য আক্রমণ হলেও শেষ পর্যন্ত টাই ব্রেকারেই যেতে হয় মেয়েদের। সেখানেও প্রথম প্রচেষ্টায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর দ্বিতীয় ধাপে এক গোলে এগিয়ে যায় খুলনার মেয়েরা।

মেয়েদের এই খেলা দেখে নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি একটা জিনিস না বলে পারছি না, এর আগেও খেলা দেখেছি। এবারের মেয়েদের খেলা দেখলাম। আমি দেখি আমাদের মেয়েরা অত্যন্ত চমৎকার খেলেছে। আমি সত্যিই খুবই আনন্দিত। আজকে যে দলগুলি উঠে এসেছে এরাই একদিন ন্যাশনাল দলগুলোতে খেলবে। সেখানে আমাদের খেলার উৎকর্ষ অনেক অনেক গুণ বাড়বে।

“এবার মেয়েদের খেলাটা দেখেছি, ছেলেদেরটা দেখতে পারিনি। আগামীতে ছেলেদের খেলাটাও দেখার চেষ্টা করব।”