” রাঙ্গুনিয়া থানা, যেই সব অলির আস্তানা” এই জনপ্রিয় ভান্ডারী গানটি যখন বিভিন্ন মাজারের অনুষ্ঠানে বাজানো হয়, গাওয়া হয়, তখন মানুষ বুঝতে পারে এই মধুর কন্ঠের শিল্পীটা হলেন রাঙ্গুনিয়া কাওয়ালি শিল্পী উত্তম কুমার দাশ।
শিল্পী উত্তম কুমার একজন কাওয়ালী, ভান্ডারী এবং বিচ্ছেদ গানের শিল্পী হিসাবে ইতিমধ্যে দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেছেন।
রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের দক্ষিন নোয়াগাও ফকিরখীল গ্রামের একটি সাংস্কৃতিক পরিবারে এই শিল্পীর জন্ম । পিতা প্রয়াত হরিদাশ ছিলেন চট্টগ্রামের একজন নামকরা বাউল এবং বিচ্ছেদ গানের শিল্পী। মাতা প্রয়াত ঝন্টু রানী দাশ তার অনুপ্রেরণার উৎস।
মাত্র ১২ বছর বয়সে উত্তম কুমার তার বাবার হাত ধরে এই জগতে প্রবেশ করেন। বাবাই তার প্রথম গুরু হলেও এতদঞ্চলের আধ্যাত্মিক সাধক অলি বাচা বাবা তার জগত গুরু। মূলত বাচা বাবার দোয়া নিয়ে তার গান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে বলে জানান তিনি। এছাড়া চট্টগ্রামের জননন্দিত কাওয়াল শিল্পী আব্দুল মান্নান কাওয়ালের সান্নিধ্যে এসে তিনি জেনেছেন কাওয়ালী গানের নিগুঢ় তত্ত্ব।
শিল্পী উত্তম কাওয়ালের এই সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি তার ভক্তদের জন্য প্রকাশ করেছেন ৮ টি অডিও ক্যাসেট এবং বেশ কয়েকটি মিউজিক ভিডিও।
চট্টগ্রামের জনপ্রিয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বিনিময় ক্যাসেট বাজার হতে তার প্রথম অডিও “শানে বাচা বাবা” ভান্ডারী গানের ক্যাসেট শ্রোতামহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন। এর পর শিল্পী “ফুল বাগানে বাঁচা বাবা” জিয়ারতে আনারউল্লাহ শাহাজী বাবা, জিয়ারতে হারেস শাহ সহ ০৮ টি অডিও ক্যাসেট শ্রোতাদের উপহার দেন। প্রতিটি অডিও ক্যাসেটের গান শ্রোতাদের মুখে মুখে ছিলো।
শিল্পী উত্তম কুমারের প্রথম মিউজিক ভিডিও “বাচা বাবা ” প্রকাশ হওয়ার পর শ্রোতারা তাকে চিনে তার আসল রুপে। চট্টগ্রামের এমন কোন মাজার নেই যেখানে শিল্পী উত্তম কুমার তার মোহনীয় কন্ঠের মাধুর্য্য দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন নাই।
ঢাকা মিরপুর শাহ আলী বোগদাদীর মাজার, খুলনা বাগেরহাট খান জাহান আলীর মাজার, আখাউড়া কেল্লা বাবার মাজারে তিনি কাওয়ালি ভান্ডারী ও বিচ্ছেদ গান পরিবেশন করে উপস্থিত শ্রোতা মহলের অকুণ্ঠ প্রশংসা অর্জন করেছেন।
বর্তমানে তিনি তার সঙ্গীয় যন্ত্রী শচীন, ওমেল, রানা, মনু এবং আশিককে নিয়ে প্রতিনিয়ত চট্টগ্রামের আনাচে কানাচে কাওয়ালি, ভান্ডারী ও বিচ্ছেদ গান পরিবেশন করে আসছেন। তার স্ত্রী আঁখি দাশ বর্তমানে তাকে এতদূর আসার পিছনে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে শিল্পী উত্তম কুমার বলেন-সংগীত জগতে থেকে মানুষের মনকে আমৃত্যু জয় করতে চাই শিল্পী উত্তম কুমার প্রসঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ঝুলন দত্ত বলেন, ‘শিল্পী উত্তম কুমার একজন জাত শিল্পী। তার কন্ঠের অপূর্ব মাদকতা মুহূর্তে মন প্রাণ ভরে যায়।
আর এজন্যই এই গুণি শিল্পীর বর্তমান রাঙ্গুনিয়া সহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলায় সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে।’








