Site icon CPLUSBD.COM

কাঠবিড়ালি শিকারে এসে মারধরের শিকার দুই আদিবাসী

বান্দরবান জেলার পাহাড়ী এলাকায় বসবাসরত আদিবাসীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও সুস্বাদু খাবার কাঠবিড়ালির মাংস। পছন্দনীয় এই খাবারের সন্ধানে আদিবাসীদের মধ্যে কেউ কেউ দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে কাঠবিড়ালি শিকারে ছুটে যায় বিভিন্ন এলাকায়।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বান্দরবান সদর থানার চারমাইল ৪ নং ওয়ার্ডের লাইমিং পাড়ার লাল মিন ময়ের দুই পুত্র লাং থিয়াং ময় (৩১) ও রাম লিয়াং থাং পম (১৩) বান্দরবান থেকে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার ময়নার বাপের পাহাড় এলাকায় কাঠবিড়ালি শিকার করতে এসে বেধরক মারধরের শিকার হয়েছে।

কবুতর শিকারের অভিযোগে তাদেরকে বেধরক পিটিয়েছে দোহাজারী পৌরসভার ময়নার বাপের পাহাড় এলাকার আব্দুর রহিমের পুত্র আব্দুর রহমান ওরফে ছয় পোয়ার মা’র পুত্র রহমান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ময়নার বাপের পাহাড় মহল্লা কমিটির সর্দার খোরশেদ আলী জানান, শুক্রবার দুপুরে কাঠবিড়ালি শিকারে আসা দুই উপজাতিকে কবুতর মারার মিথ্যা অভিযোগে বেধরক মারধর করেছে আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুর রহমান। প্রতিবাদ করতে গেলে আমার দুই পুত্রবধূকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে সে। পরে পুলিশ এসে মারধরের শিকার দুই উপজাতিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কাঠবিড়ালি আমাদের অনেক ক্ষতি করে। ক্ষতিকর এই প্রাণীটি শিকার করে আমাদের উপকার করছে আদিবাসীরা। যেখানে তাদেরকে ধন্যবাদ দেয়ার কথা, সেখানে তাদেরকে বেধরক মারধরের ঘটনা দুঃখজনক।

আহত লাং থিয়াং ময় জানায়, আমরা কাঠবিড়ালি শিকার করতে গেলে কবুতর মারার মিথ্যা অভিযোগে আমাদেরকে মারধর করে একটি ছেলে। এতে আমার ছোট ভাই লিয়াং থাং পমের মাথা ফেটে যায়। আঘাতের কারনে আমার পা ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কায় এক্সরে দিয়েছেন ডাক্তার। আমাদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ দিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই আতিকুর রহমান জানান, `দুই আদিবাসীকে মারধরের সংবাদ পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে মারধরকারী পালিয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে দোহাজারী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদেরকে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কিনে দিয়েছি। মারধরের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা মামলা করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে তাদরকে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাসে তুলে দিয়েছি। অভিযুক্ত আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’