নিউজটি শেয়ার করুন

কানাডিয়ান কোম্পানির তিন কোটি তিরাশি লক্ষ টাকা আত্মসাৎ: আসামীর জামিন না মঞ্জুর, জেল হাজতে প্রেরণ

কানাডিয়ান কোম্পানির তিন কোটি তিরাশি লক্ষ টাকা আত্মসাৎ

সিপ্লাস ডেস্ক: চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকার কানাডিয়ান কোম্পানি MIDAS SAFRTY, INDUSTRIAL HAND PROTECTION LIMITED লিঃ পাসর্চেজ অফিসার (প্যাকেজিং) মোঃ মহসিন আলম (৩৪) আত্মসমর্পণ পূর্বক জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করেছেন বিজ্ঞ এডিশনাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মহিউদ্দিন মুরাদ- এর আদালত।

আসামী মোঃ মহসীন আলম হাটহাজারী উত্তর মাদারশা (হাতির বাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা এবং ইপিক কামার পার্ক, ফ্ল্যাট নং এ ১, ৮ম তলা, চানমারি রোড, লালখান বাজার, চট্টগ্রাম- এ বসবাসকারী মোঃ সুলতানুল আলমের পুত্র ।

MIDAS কোম্পনির পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি অতনু গুপ্ত (৩৬), এইচআর এডমিন বাদী হয়ে ২০২০ সালের ২ নভেম্বর ৩,৮৩,১৫,৫৩৫/- (তিন কোটি তিরাশি লক্ষ পনের হাজার পাঁচশত পঁয়ত্রিশ) টাকা কোম্পানির গ্রাহকদের নিকট থেকে কমিশনের নামে নিজ একাউন্টের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলাটির তদন্ত শেষে পিবিআই চট্টগ্রাম, মেট্রো- এর তদন্তকারী অফিসার এসআই মোঃ হুমায়ুন কবির ও পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানার তদারকিতে দাখিলীয় প্রতিবেদন আত্মসাতের অভিযোগ সুপ্রমানিত হওয়ায় বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন ।

আসামী ইতিমধ্যে বিদেশ পাড়ি জমানোর চেষ্টা করলে গত ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বিজ্ঞ আদালত তার বিদেশ গমনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন । আসামী গত ১ মার্চ মহামান্য সুপ্রীমকোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং বিচারপতি কে এম হাজিদ সারোয়ার- এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে আত্মসমর্পণ করলে মহামান্য হাইকোর্ট আসামীকে বিজ্ঞ সিএমএম আদালতের সন্তুষ্টিতে উপযুক্ত জামিননামা দাখিলের শর্তে ৬ (ছয়) সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন এবং বিজ্ঞ সিএমএম আদালতকে মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে পরবর্তী জামিনের দরখাস্ত নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দেন ।

আসামী জামিনের মেয়াদ শেষে বিজ্ঞ সিএমএম- এর চার্জ কোর্ট এসিএমএম মহোদয়ের আদালতে আত্মসমর্পণ করিলে MIDAS এর আইনজীবী বলেন, আসামীর বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৮/৩২০/৫০৬ ধারায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তিনি মামলার Sole Accused (একমাত্র আসামী)। বাদী কোম্পানির গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত এবং অডিট রিপোর্টের সরাসরি তার একাউন্টে গ্রাহকদের টাকা জমা হওয়ার প্রমাণ আছে । পিবিআই এর তদন্তেও এর সত্যতা প্রমাণ সহ (জব্দ তালিকা) ফুটে উঠেছে । আসামী জামিন পেলে চিরতরে পালিয়ে যাবে।

আদালত উভয় পক্ষের শুনানী শেষে আসামীর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং সি ডব্লিউ মূলে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন ।

বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছেন এডভোকেট এ এম জিয়া হাবীব আহ্সান, এডভোকেট মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, এডভোকেট মোঃ হাসান আলী, এডভোকেট মোহাম্মদ বদরুল হাসান প্রমুখ ।