নিউজটি শেয়ার করুন

কাপ্তাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের জন্য সাড়ে ৫’শ টাকা করে আদায়, দিচ্ছেনা রশিদ

কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর এডমিট কার্ড বিতরণের সময় রশিদ ছাড়াই ৫’শ ও সাড়ে ৫’শ টাকা হারে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছে অভিবাবক মহল। শিক্ষা খাতে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নিয়ম বহির্ভূত ফি (রশিদ ছাড়া) নেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করেছে ছাত্রলীগ।

এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও গত কয়েকদিন যাবত বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, কাপ্তাইয়ের ‘নারানগিরি উচ্চ বিদ্যালয়’, ‘কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়’ ও শহীদ শামসুদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘এসএসসি পরীক্ষা ২০২০’ এ অংশ নেওয়া শিক্ষাথীদের কাছ থেকে সাড়ে ৫’শ ও ৫’শ টাকা করে এডমিট কার্ড বিতরণের সময় নেওয়া হয়েছে।

দাবিকৃত টাকা পরিমাণে কম দিলে এডমিট কার্ড পেতে নানান হয়রানি পোহাতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষা খাতে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নিয়ম বহির্ভূত ফি (রশিদ ছাড়া) নেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে কাপ্তাই উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এম নূর উদ্দিন সুমন জানান, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিজ্ঞান বিভাগে ‘বোর্ড ফি- ১৫০৫ টাকা’ ও ‘কেন্দ্র ফি-৪৬৫ টাকা’, ব্যবসায় বিভাগে ‘বোর্ড ফি- ১৪১৫ টাকা’ ও ‘কেন্দ্র ফি-৪৩৫ টাকা’ ও মানবিক বিভাগে ‘বোর্ড ফি- ১৪১৫ টাকা’ ও ‘কেন্দ্র ফি-৪৩৫ টাকা’ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

অথচ উক্ত টাকার সঙ্গে বিভিন্ন খাতের কথা জানিয়ে রশিদ না দিয়েই বিজ্ঞান, ব্যবসায় ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী থেকে ক্রমন্নয়ে ৪’হাজার, ৩৮’শ ও ৩৫’শ টাকা আদায় করা হয়। পূর্বের ন্যায় এবার এডমিট কার্ড বিতরণকালীন সময়েও দেওয়া হচ্ছেনা কোন রশিদ। আদায় করা হয়েছে ৫’শ থেকে সাড়ে ৫’শ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে নারানগিরি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৭২ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী থেকে সাড়ে ৫’শ ও অনিয়মত ১২৩ জন থেকে সাড়ে ৪’শ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তবে রশিদ না দেওয়ায় অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ করেছেন রাইখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি মো. সালাউদ্দিন।

তিনি জানান, গত পরশু বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষক ছিল না, দপ্তরি ও হিসাব রক্ষক মাধ্যমেই এই টাকা আদায় করেছে।

প্রধান শিক্ষকের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমাকে (সালাউদ্দিন, ছাত্রলীগ সভাপতি) বলেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশেই উক্ত টাকা আদায় করা হয়েছে।

মো. ইউসুফ নামক এক অভিবাবক জানান, এডমিট কার্ডের জন্য আমি ৫’শ টাকা দিয়েছি অথচ আমাকে ৫০ টাকার জন্য এডমিট কার্ড দেয়নি। পাশাপাশি তাকে রশিদও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এদিকে এই ঘটনার খোঁজ জানতে কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়ে গেলে বিদ্যালয়ের হিসাব রক্ষক মো. জামাল বলেন, শিক্ষার্থীদের রশিদ দিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে নিষেধ করেছেন। এদিকে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি সদস্য মো. নবী হোসেন জানান, আজ কয়েকদিন যাবত অনেক অভিভাবকই আমার কাছে এই টাকা সম্বন্ধে জানতে চাচ্ছেন। কিন্তু আমাদেরও বলেনি টাকাটা কিভাবে/কোন কারণে বিদ্যালয় সংগ্রহ করছে।

এই বিষয়ে কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হোসেন জানান, কেন্দ্র ফি হিসেবে ৫’শ টাকা করে আদায় করা হয়। তবে রশিদ না দেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করে আগামীতে রশিদ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন এই প্রতিনিধিকে।

উক্ত টাকা কেন্দ্র ফি বাবদ আদায় করা হচ্ছে উল্লেখ করে নারানগিরি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার মল্লিক জানান, কোন বিদ্যালয়ই কেন্দ্র ফি বাবদ আদায়কৃত টাকার রশিদ দিয়ে থাকেনা। কেউ যদি দেয় তবে আমরাও দিবো।

এই বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাদির আহম্মেদ জানান, উক্ত টাকা কেন্দ্র ফি বাবদ নেওয়া হয়েছে। তবে রশিদ না দেওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় উঠেছে। আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো। যেনো প্রত্যেককে রশিদ প্রদান করা হয়। এছাড়া আগামীতে এমন ভুল যেন না হয় সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের অবহিত করবো।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহম্মেদ রাসেল বলেন, যে সকল প্রতিষ্ঠান ফরম পূরণের সময় সরকারিভাবে নির্ধারিত কেন্দ্র ফি নেয়নি তার বর্তমানে প্রবেশ পত্র (এডমিট কার্ড) বিতরণের সময় তা নিচ্ছে। তবে বিজ্ঞান বিভাগে ৪৬৫ টাকা’, ব্যবসায় বিভাগে ৪৩৫ টাকা ও মানবিক বিভাগে ৪৩৫ টাকা নির্ধারণ করার পরেও যারা বেশি নিয়েছে তারা অন্যায় করেছে। এটা উচিত হয়নি। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।