সিপ্লাস ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এবং শহরটির আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর আমেরিকান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তালেবান যোদ্ধারা রাজধানীর বেশ কিছু অংশ নিয়ন্ত্রনে নিয়েছে- তালেবানদের এমন দাবি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এবং হামিদ কারজাই আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর নিরাপদ রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক ব্লিঙ্কেন বলেছেন তালিবানের আফগানিস্তান দখল ও কাবুলের পতন হৃদয় বিদারক এক ঘটনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান এবং যেসব আফগান তাদের সাথে কাজ করেছেন, তাদের সরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা তৎপর রয়েছে ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দপ্তরে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী. আল্লামান্ডকে স্বাগত জানাচ্ছিলেন।
আফগান বাহিনীর এতো দ্রুত পতনে্র জন্য ওয়াশিংটন প্রস্তুত ছিল না, এমন সমালোচনা নাকোচ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন বলেন, আমাদের প্রথম কাজ হবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যারা এখনো দূতাবাসে রয়েছেন এবং আফগান জনগণ যারা আমাদের সহায়তা করেছেন।
CNN ‘র স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে ব্লিঙ্কেন বলেন, আমরা তাদের সরিয়ে নিয়ে আসতে যথাসাধ্য করবো, যদি তারা সেটা চান।
তিনি বলেন, আমরা তালিবানের কাছে কিছুই চাই নি, তবে বলেছি আমাদের প্রত্যাহার পর্বে আমাদের জনগণ বা কোনো পদক্ষেপের প্রতি হস্তক্ষেপ করা হলে, দ্রুততার সঙ্গে স্পষ্ট জবাব দেয়া হবে।
স্পর্শকাতর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা VOA কে জানান, কাবুল দূতাবাসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে । তিনি জানান হাজার হাজার সেনা আফগানিস্তান এসে পৌঁছুচ্ছেন এবং দূতাবাস সংলগ্ন এলাকা ও কাবুলের বাইরে হামিদ কারজাই বিমান বন্দর ‘দৃঢ়ভাবে আমাদের নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।
এদিকে, কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপক্ষে পাঁচ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
আজ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে যাত্রী টার্মিনালে গুলিতে তিন জন নিহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান যে, তারা নিহতদের মরদেহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছেন।
কারা এই গুলি চালিয়েছে প্রতিবেদনে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
আবার, সোমবার দুপুরে আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরে আকাশে উড়ন্ত বিমান থেকে পড়ে মৃত্যু হলো দুই ব্যক্তির।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে কলকাতার বাংলা পত্রিকা আনন্দবাজারের অনলাইন ভার্সন জানিয়েছে, প্রাণ বাঁচাতে বিমানের চাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন ওই দুই আফগান নাগরিক। বিমান আকাশে ওড়ার পরেই ছিটকে পড়েন তারা।
আজ সোমবার কাবুল বিমানবন্দরের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ হয়েছে।
রবিবার দুপুরে তালেবান কাবুল দখল করলে আফগানিস্তানের রাজধানীর বিমানবন্দরে ভিড় বাড়তে শুরু করে।

