সিপ্লাস প্রতিবেদক: আগামী ২১ জুলাই ঈদুল আজহা বা কোরবানি ঈদ। একেবারে সন্নিকটে হলেও ঈদকে ঘিরে চট্টগ্রামে কামারের দোকানগুলোতে নেই কোনো ধরনের কর্মব্যস্ততা। কামার পাড়ায় বিরাজ করছে সুনসান নিরবতা।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের দেয়া কঠোর লকডাউনের মধ্যে অলস সময় কাটাচ্ছেন কামাররা।
লকডাউনে আয় কমে গেলেও সরকারি সহায়তা বদলে নিজেদের তৈরি জিনিস বিক্রির জন্য দোকান খোলার অনুমতিও নেই তাদের।
কামারদের হাতিয়ার বানানোর আয়োজন শুরু হতো ঈদের কয়েকমাস আগে থেকে। কেনাবেচা চলতো ঈদের চাঁদ রাতের দিন পর্যন্ত। এ সময় কামারশালার পাশ দিয়ে গেলেই শোনা যেত ঠুকঠাক আর লোহা গরম করা ভাতির ভোঁ ভোঁ শব্দ।
১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন ঘোষণার পর এবারের চিত্রটা একটু ভিন্ন।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কামারশালার সামনে একসময় যেখানে বোঝাই করে পসরা সাজানো থাকতো ছুরি, দা, বটি, চাপাতিসহ নানা হাতিয়ার, সেখানে হাতেগোনা কয়েকটি দা-বটি।
নেপাল নামের এক কামার বলেন, ‘কোরবানিকে ঘিরে আমাদের ব্যবসা শুরু হয় কয়েকমাস আগেই। এসময় প্রতিদিনই বিক্রি হয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। পরে আস্তে আস্তে বিক্রি বাড়ে। দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়, যা চলে চাঁদ রাত পর্যন্ত। এবছর ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। অথচ এখনও কাজ শুরু করতে না পারায় আমাদের ব্যবসা ও স্বপ্ন ভেস্তে গেছে। সরকারি কোনো সহায়তার বদলে দোকান খোলা রাখার অনুমতি থাকলে আমারা মানবেতন পরিস্থিতির শিকার হতাম না।
কামার বাবলু বলেন, ‘ঈদের আর বেশি সময় নেই। এ বছরও ব্যবসার সময়টাতেই লকডাউন। এ বছর আতঙ্কে এখনও একটা জবাই করার চাকু পর্যন্ত বানাইনি। শহরের দোকানপাট সবই বন্ধ। যেখান থেকে লোহা কিনব ওই দোকনটাও বন্ধ।
তিনি বলেন, গত বছর লকডাউন থাকলেও কিছুটা হলেও ব্যবসা করার সুযোগ পেয়েছি। এ বছর মোটেও সম্ভাবনা নেই।








