সিপ্লাস ডেস্ক: সংক্রমণ মোকাবেলায় শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া গেলে জাপানে করোনাভাইরাসে ৪ লাখ ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির কোভিড-১৯ সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্স।
আক্রান্তের মধ্যে সাড়ে ৮ লাখ মানুষের ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন পড়তে পারে বলেও ধারণা দিয়েছে তারা।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে টাস্ক ফোর্সের সদস্য ও হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরোশি নিশিওরা বলেন, সরকার যদি জনগণের মধ্যে নিরাপদ সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকিয়ে রাখা যাবে না।
“আমরা চাই না মানুষ এভাবে মারা যাক। যদি এখনই সাবধান না হই, তাহলে সামনে আরও খারাপ দিন অপেক্ষা করছে,” বলেছেন তিনি।
ষাটোর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা অন্য দেশগুলোর তুলনায় বেশি হওয়ায় জাপানে করোনাভাইরাস ভয়াবহ আঘাত হানতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন।
দেশটির জনসংখ্যার ২৬ দশমিক ৭ শতাংশেরই বয়স ৬৫ বছরের বেশি। শতবর্ষী আছেন ৭১ হাজারের উপরে।
সংক্রমণ মোকাবেলায় ৮ এপ্রিল থেকে টোকিও, ওসাকাসহ জাপানের ৭টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি হলেও বাস ও রেলস্টেশনে ভিড় কমেনি। অফিস-আদালতও স্বাভাবিক।
সরকার প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রাখতে অনুরোধ করলেও জাপানের আইনে জরুরি অবস্থা অগ্রাহ্যে জরিমানা বা শাস্তির বিধান না থাকায় মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে ছেদ পড়েনি।
টাস্ক ফোর্সের সতর্কবার্তার পর বুধবার জাপানের সরকার দেশটির জনগণকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। মানুষে মানুষে যোগাযোগ ৭০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জনগণের সহায়তাও চেয়েছে তারা।
বুধবার পর্যন্ত জাপানে ৮ হাজার ৮০০ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যাও পৌছেছে ২০০-র কাছাকাছি।
দেশটির মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মুখ্য সচিব ইয়োশিহিদা সুগা জানান, সংক্রমণ মোকাবেলায় সরকার আরও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে।
“তবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ানোরই চিন্তা চলছে,” বলেছেন তিনি।








