নিউজটি শেয়ার করুন

কাল থেকে রমজান ও লকডাউন, কেনাকাটায় হাট-বাজারে উপচে পড়া ভিড়

শাহরুখ সায়েল: পবিত্র মাহে রমজান ও এক সপ্তাহের লকডাউনকে সামনে রেখে নগরীর হাট-বাজারে উপচে পড়া ভিড় জমে ছিল।  রমজান ও লকডাউনের জন্য খাদ্য সামগ্রী ক্রয় করতে ব্যস্ত ছিলেন বেশিরভাগ ক্রেতা।

নগর জুড়ে উন্মুক্ত স্থানে হাট-বাজার বসালেও লোকসমাগম কমছে না। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। এতে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি।

নগরীর রেয়াজুদ্দিন বাজার, বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার, সিডিএ কর্ণফুলি মার্কেট, কাজীর দেউরী, আগ্রাবাদ টিএন্ডটি কাঁচাবাজার, নেভি হাসপাতাল গেইট বাজারসহ সব বাজারেই ভিড় জমেছিল।

সরেজমিনে বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, রমজান উপলক্ষে ক্রেতারা মাছ, মাংস, দুধ, ফলমূল, সবজি, ডিম, লেবু, পুদিনা, কাঁচামরিচ, খেজুরসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করতে ব্যস্থ সবাই। ভিড় বেড়েছে মুদি দোকানেও। মুদির দোকানগুলোতে ক্রেতারা এক সপ্তাহের জন্য নিত্য ভোগ্যপণ্য কেনার পাশাপাশি অনেকে গরিব প্রতিবেশী, স্বজনদের বিতরণের জন্য সেহেরি ও ইফতারসামগ্রী কিনতে দেখা গেছে।

নগরীর বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাছের বাজার, কাঁচাবাজার, দুধবাজার, রমজান উপলক্ষে বসেছে ফলমূল, খেজুর, আপেল, আনারস, মালটার দোকান। এসব দোকানে পা ফেলার কোন জায়গা ছিলনা। কার থেকে কে আগে দ্রব্য সামগ্রী ক্রয় করতে পারে এই নিয়ে ছিল প্রতিযোগীতা।

বাজারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়নি। ঠেলাঠেলি করে হাজারো লোক কেনাকাটা করেছে।

বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে মাছ, মুরগি, ডিম, চাল, ডাল, সয়াবিন, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ছোলা, কাঁচামরিচের দাম । মোড়কজাত আটা, ময়দা, সুজি, ডাল, চিনি, লবণ, শরবতের পাউডার বিভিন্ন ধরনের মসলার প্যাকেটের দামও রয়েছে অপরিবর্তিত ।

তবে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেড়েছে লেবুর দাম।

ফলের দোকানগুলোতে রমজানের ইফতার ও করোনা প্রতিরোধের বিষয় মাথায় রেখে মোসাম্বি-মাল্টা, আঙুর, আপেল, খেজুর, পেয়ারা, তরমুজ, বাঙ্গিসহ দেশি-বিদেশি ফল কিনছেন ক্রেতারা।

বহদ্দার হাট কাঁচা বাজারে  মইন উদ্দিন নামে এক ক্রেতা বলেন, আতংকের মধ্যেও কাঁচাবাজার নিতে এসেছি। অনেকের গা ঘেঁষাঘেঁষি করে জিনিসপত্র ক্রয় করতে হচ্ছে। এতে কখন যে করোনায় আক্রান্ত হই, আল্লাহপাক জানেন। সাথে কিছু ওষুধের দরকার ছিল, তাই আসা। তাহলে আজকে কাঁচা বাজারও কিনতাম না। বাজারের দৃশ্য দেখে মনে হয় বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস বলতে কিছু নেই। রমজান উপলক্ষে কিছু দ্রব্য সামগ্রী কেনা খুবই জরুরি ছিল। কিন্তু এসে দেখি ভিন্ন চিত্র।

মুদি ব্যবসায়ীরা সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য ক্রেতাদের বললেও তারা শোনে না। একজনের উপর এসে আরেকজন দাঁড়িয়ে থাকে। চেষ্টা করি কিন্তু কাজ হয় না। শুধু চেচামেচিই করছে দোকানিরা। সরকারের বিভিন্ন সেবা সংস্থা থেকে প্রতিদিন মাইকিং করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য বলা হলেও সামাজিক দূরত্বের কথা শুনছে না কেউ।