নিউজটি শেয়ার করুন

কাশ্মীর নিয়ে বিরোধে মালয়েশিয়ার পাম তেল থেকে মুখ ফেরাচ্ছে ভারত

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ গত মাসে জাতিসংঘে দেওয়া এক বক্তৃতায় ভারত কাশ্মীরকে ‘আক্রমণ ও দখল’ করে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটি থেকে এ উদ্ভিজ্জ তেল আমদানিতে লাগাম টানতে পারেন সন্দেহে ভারতীয় ক্রেতারা ইন্দোনেশিয়ার দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন।

তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার এক বিবৃতিতে সলভেন্ট এক্সট্রাকটরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া তার সদস্যদের মালয়েশিয়া থেকে মুখ ফেরাতে নির্দেশনা দেয় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

“বিপুল পরিমাণ পাম ওয়েলের আমদানিকারক হিসেবে আমাদের দেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের ক্ষেত্রে আমাদেরও দায়বদ্ধতা আছে। আপনাদের নিজস্ব স্বার্থ এবং দেশের সঙ্গে সংহতির অংশ হিসেবে আমাদের উচিত কিছু সময়ের জন্য মালয়েশিয়া থেকে পণ্য ক্রয় এড়িয়ে যাওয়া,” বলেছে তারা।

ঘাটতি মেটাতে ভারতীয় পাম তেল প্রক্রিয়াজাতক কোম্পানিগুলোকে ইন্দোনেশিয়া, ইউক্রেইন ও আর্জেন্টিনার দিকে নজর দিতে পরামর্শ দিয়েছেন গোষ্ঠীটির নির্বাহী পরিচালক বি ভি মেহতা।

মালয়েশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাম তেল উৎপাদক দেশ; অন্যদিকে ভারত এ তেলের বৃহত্তম ক্রেতা।

ভারতীয় ক্রেতারা আমদানি বন্ধ করলে মালযেশিয়ার পাম তেল শিল্পখাত বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। উদ্ভিজ্জ এ তেলটি মালয়েশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃষি রপ্তানি পণ্য। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা ভারতে প্রায় ৩৯ লাখ টন পাম তেল রপ্তানি করেছে, যার বাজার মূল্য ২০০ কোটি ডলার।

বছরের শুরুতে নয়া দিল্লি শুল্ক তুলে নেওয়ায় এ নয় মাসে মালয়েশিয়া ভারতে যে পরিমাণ পাম ওয়েল রপ্তানি করেছে তা গত বছরের দ্বিগুণেরও বেশি।

মালয়েশিয়ায় আট মাসের মধ্যে শুক্রবার পাম তেলের দর সর্বোচ্চ ছিল, বর্তমানে তা টন প্রতি ২ হাজার ২৬৩ রিঙ্গিত পর্যন্ত কমে গেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

“(ভারতীয় বাণিজ্যিক গোষ্ঠীর) এটা বড় ধরনের পদক্ষেপ, যা মালয়েশিয়ার পাম উৎপাদকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যদিও পাইপলাইনে প্রচুর তেল রয়েছে; তারপরও কাশ্মীরের ঘটনায় বাজারে কিছু কড়াকড়ির আশঙ্কা রয়েছে, তেমনটা হলে তা অন্যান্য উদ্ভিজ্জ তেলকে সুবিধা করে দেবে,” বলেছেন সিঙ্গাপুরভিত্তিক কালেসুয়ারি ইন্টারকন্টিনেন্টালের ট্রেডিং অ্যান্ড হেজিং স্ট্র্যাটেজিসের প্রধান গ্নানাসেকার থিয়াগারাজান।