সিপ্লাস ডেস্ক: গ্রাম্য সাালিসে এক কিশোরীর (১৩) ইজ্জতের মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা! তারপরও একটি টাকাও দেওয়া হয়নি কিশোরীর পরিবারকে। ছেলেটির পরিবার প্রভাবশালী হওয়াই ঘটনাটি মীমাংসা জন্য স্ট্যাম্পে বোঝাপড়াও হয়েছে। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম রানেল মন্ডল (২৫) পৌরসভার কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত মন্টু মন্ডলের ছেলে। রফিকুল ইসলাম রানেল ওই কিশোরীকে প্রথমে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। এরপর তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার দৈহিক সর্ম্পক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জানাজানির পর গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সালিসী বৈঠকে রফিকুল ইসলামকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন গ্রামের মাতবররা।
কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম রানেলের সাথে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীর ৩-৪ মাস আগে প্রেমের গড়ে ওঠে। তখন থেকেই রফিকুল বিয়ের কথা বলে কিশোরীর সাথে একাধিকবার দৈহিক সর্ম্পক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে গত বুধবার রাতে রফিকুল ইসলাম ওই কিশোরীকে মুঠোফোনে তাদের বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। এরপর তাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে অভিযুক্ত রফিকুল কিশোরীকে তার কাছে সারারাত রেখে ভোরে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
এদিকে, ওই কিশোরীকে রাতে বাড়িতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেন। ভোরে যখন কিশোরী বাড়িতে আসে তখন পরিবারের চাপের মুখে পড়ে সে সব খুলে বলে। এরপর ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পরে। তখন কেশবপুর গ্রামের পৌরসভার কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম, ফেরদৌস মন্ডল, টিটু হোসেন, লিটন হোসেন, বাহাদুর ঘটনাটি নিয়ে গ্রামে সালিসী বৈঠকে বসেন। সেখানে রফিকুল ইসলাম রানেলের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন মাতব্বররা। সেখানে স্ট্যাম্পে বোঝাপড়াও করে নেয়া হয়। তবে ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও জরিমানার এক টাকাও ওই কিশোরীর পরিবার পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
কেশবপুর গ্রামের লিটন হোসেন বলেন, সালিসে গ্রামের অনেক লোকের মধ্যে আমিও ছিলাম। টাকা-পয়সা দেওয়া হয়নি এটা ভুল কথা। হয়তবা টাকা জোগাড় করতে একটু সময় নিতে পারে। না দিয়ে যাবে কোথায়। আর পুরো ঘটনাটি দেখভাল করছেন কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম।
কিশোরী জানায়, রফিকুল ইসলামকে আমি ভাই বলে ডাকতাম। একপর্যায়ে আমাদের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক তৈরি হয়। কিছুদিন আগে আমার মামার বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গাতে আমাকে ডেকেছিল। সেখানে আমি গিয়েছিলাম, তখন সে আমার সাথে শারীরিক সর্ম্পক স্থাপন করে। এর পর গত বুধবার দিবাগত রাতে আমাকে ফোন করে ডাকে। এরপর রফিকুল ইসলাম আমাকে এগিয়ে নিতে আমার বাড়ির কাছে আসে, তখন আমি ওর (রফিকুল ইসলাম) সাথে তাদের বাড়িতে যাই। বাড়িতে যাওয়ার পরে রফিকুল সারারাত ধরে আমার সাথে শারীরিক সর্ম্পক স্থাপন করে। ভোরে সে আবার আমার বাড়ির কাছে পৌঁছে দেয়। পরের দিন সকালে (গত বৃহস্পতিবার) পরিবারের চাপে আমি সব খুলে বলি। তখন ঘটনাটি জানা জানি হওয়ার পরে বাবা আমাকে বাড়িতে থাকতে দিচ্ছে না। এখন আমি রফিকুল ইসলামকে বিয়ে করতে চাই। কিন্তু সে আমাকে বিয়ে করবে না। এখন মরণ ছাড়া আমার কোনো গতি নাই।
কিশোরীর ফুপু বলেন, রাতে আমাদের মেয়ে বাড়িতে না থাকায় আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করি। ভোরে সে বাড়িতে ফিরলে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে জানায় রফিকুল ইসলাম রানেল নামে এক ছেলের বাসায় সে ছিল। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সালিস বসে। সেখানে রফিকুলের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু আমরা কোনো টাকা পাইনি।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম রানেলের খোঁজ নিয়ে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ছোট ভাই রাহেল বলেন, ঘটনার পর থেকে ভাইয়ের ফোন বন্ধ রয়েছে। সালিসে আমার ভাইয়ের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই টাকা এখনও দেওয়া হয়নি। আমরা এক মাস সময় নিয়েছি।
স্থানীয় ১০-১৫ জন গ্রামবাসীরা জানান, রফিকুল ইসলাম মেয়েটির সর্বনাশ করেছে। গ্রামের কয়েকজন মাতব্বররা শালিস ডেকে ছেলের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। শুনছি ওই টাকার একটাকাও মেয়ের পরিবার পাননি। ছেলে এখন গা ঢাকা দিয়েছে।
কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম বলেন, রফিকুল ইসলাম রানেলের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু টাকাটা পরিশোধ করতে তারা কিছুদিন সময় নিয়েছেন।

