নিউজটি শেয়ার করুন

কি কারণে ছেলে জেলে জানলো না পিতা, অবশেষে টেনশনে মৃত্যু

জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর সাংবাদিক এনাম হায়দারের সাথে মাবুদ
স্বরূপ ভট্টাচার্য : ছেলেকে ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ। কিন্তু পিতা জানলো না তার সন্তানকে কেন পুলিশ নিয়ে গেলো। অতঃপর ছেলেকে জেলে পাঠানো হলে পিতা বার বার সাংবাদিক সহ সকলের কাছে জানতে চান কি অপরাধে তার ছেলেকে জেলে পাঠানো হলো? কিন্তু উত্তর পাননি। দুশ্চিন্তায় ভুগতে ভুগতে শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে মারা গেলেন পিতা।
এমনই ঘটনা ঘটেছে হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের হাটহাজারী শাখায় ৩লক্ষ টাকার মালামাল চুরি হয়। কুরিয়ার সার্ভিস কতৃপক্ষ হাটহাজারী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ঐ কুরিয়ার সার্ভিসে ১২জন কর্মচারীর একজন ছিলেন গড়দুয়ারা ইউনিয়নের আজম উদ্দিন সিকদারের ছেলে আবদুল মাবুদ। শনিবার(১৯ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পুলিশ সন্দেহ ভাজন হিসাবে মাবুদকে ধরে নিয়ে যায়। পরে রোববার মাবুদকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠায়।
এদিকে মাবুদকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে পিতা আজম উদ্দিন তাঁর পরিচিত সাংবাদিকসহ বিভিন্ন জনের কাছে ফোন দিয়ে জানতে চান তাঁর ছেলেকে কি কারনে জেলে পাঠানো হলো। কিন্তু কেউ সদুত্তর দিতে পারেন নি। দুশ্চিন্তায় ভুগতে ভুগতে রোববার আজম উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। আশংকাজনক অবস্থায় স্থানীয় আলিফ হাসপাতালে নেয়ার পর রোববার রাত ২টার দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আজম উদ্দিন সিকদার।
পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান সরোয়ার মোর্শেদ তালুকদারের সহযোগীতায় এডভোকেট রাসেল সরকার পিতার মৃত্যুজনিত কারন দেখিয়ে সোমবার(২১ডিসেম্বর) মাবুদের জামিনের আবেদন করেন আদালতে। আদালত বিষয়টি বিবেচনা করে মাবুদের জামিন মঞ্জুর করেন।
এডভোকেট রাসেল বলেন, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে চুরির ঘটনায় মাবুদকে সন্দেহ ভাজন হিসাবে আটক করেছিলো পুলিশ। আজ(সোমবার) তার পিতার মৃত্যু জনিত কারন দেখিয়ে আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত মাবুদের জামিন মঞ্জুর করে।
এডভোকেট রাসেল বলেন, মাবুদকে ৩৮১ধারায় আটক করে পুলিশ।
এবিষয়ে এনটিভির সাংবাদিক এনাম হায়দার বলেন, মাবুদের পিতা আজম উদ্দিন সিকদার আমার পূর্ব পরিচিত। মাবুদকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি আমাকে অসংখ্যবার ফোন দিয়ে জানতে চান পুলিশ কি কারনে তার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে।?  কি কারনে তার ছেলেকে জেলে পাঠানো হয়েছে? আমি কোন জবাব দিতে পারিনি। টেনশনে ভুগতে ভুগতে তিনি শেষ পর্যন্ত মারা গেলেন। বিষয়টি দুঃখ জনক।
সাংবাদিক এনাম হায়দার এ বিষয়ে ফেইসবুকে একটি পোষ্টও দেন।
এদিকে সোমবার বাদে মাগরিব গড়দুয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে আজম উদ্দিন সিকদারের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।