সিপ্লাস ডেস্ক: কুয়েতে গিয়ে মানবপাচারে তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশি নাগরিক সিরাজ উদ্দিনকে নরসিংদীর মাধবদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।
কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিব ফারহান বলেন, প্রায় আড়াই যুগ আগে ‘গলাকাটা পাসপোর্ট’ নিয়ে কুয়েতে গিয়েছিলেন তিনি।
“কুয়েতে মানবপাচারে বাংলাদেশি তিনজনের তিন বছরের সাজা হয়েছে। তাদের মধ্যে আমির হোসেন ওরফে সিরাজ উদ্দিন একজন। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
এই মামলায় তিন বাংলাদেশি ছাড়াও কুয়েতের একজন নাগরিকের সাজা হয়েছিল, যিনি বর্তমানে সেখানকার কারাগারে বন্দি বলে জানান সিআইডি কর্মকর্তা রাজিব।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আমির হোসেনের প্রকৃত নাম সিরাজ উদ্দিন। প্রায় ৩০ বছর আগে আমির হোসেন নামে একটি ভিসা আসে। সেই ভিসায় ‘গলাকাটা পাসপোর্ট’ দিয়ে সিরাজ উদ্দিন আমির হোসেন নাম ভাড়িয়ে চলে যান। সেখানে তিনি স্থানীয় কিছু নাগরিকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করেন। পরে মানবপাচারে জড়িয়ে পড়েন।
কুয়েতের একজন নাগরিকের সহায়তায় সিরাজ উদ্দিনসহ তিন বাংলাদেশি প্রায় ৯০০ জনকে কুয়েতে পাচার করেছেন জানিয়ে রাজিব বলেন, “মূলত ফ্রি ভিসা দিয়ে ৬ লাখ টাকা করে তাদের কাছ থেকে নিয়েছে এই চক্রটি। তাছাড়া জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও ভিসা নেওয়া হয়।
“তাদের মাধ্যমে যাওয়া অনেকে চাকরি না পেয়ে সে দেশে বিভিন্নভাবে বিক্ষোভ শুরু করলে সে দেশের সরকারের নজরে আসে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে সে দেশের সরকার তদন্ত শুরু করে মানবপাচারের প্রমাণ পায়। এরপরেই সেখানে ভুক্তভোগীরা একাধিক মামলা করলে আদালত আমলে নিয়ে বিচার শুরু করে।
“বিচার শেষে আদালত বাংলাদেশি তিনজনকে তিন বছরের এবং কুয়েতি নাগরিককে ছয় বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে।”
মামলা চলাকালে সিরাজ উদ্দিন তার পরিবারের সদস্যদের দেশে পাঠিয়ে দেন জানিয়ে এই সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, “এরপরেই তারা চাতুরতার আশ্রয় নিয়ে প্রায় দেড় বছর আগে দেশে চলে আসে। ধারণা করা হচ্ছে রায় তাদের পক্ষে হবে না জানতে পেরে তারা দেশে চলে আসে।”
এই চক্রের প্রতারণার শিকার অনেকে ২০১৮ সালের মাঝামাঝি ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছিলেন বলে জানান তিনি।
মতিঝিল থানার একটি মানবপাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিরাজ উদ্দিনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছে বা মানবপাচারের শিকার হয়েছে এমন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা সিরাজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে খোঁজ নিচ্ছেন এবং মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”
তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারে মাধ্যমে কুয়েত সরকারকে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিব ফারহান বলেন, “কুয়েতে মানবপাচার আর ব্যবসা থেকে আসা টাকা থেকে আমির ওরফে সিরাজ মাধবদীর বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসায় দান করায় তার কিছুটা জনপ্রিয়তা সৃষ্টি হয়। এছাড়া সে ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মানুষের কাছাকাছি থাকায় গ্রেপ্তারের সময় বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।”








