নিউজটি শেয়ার করুন

কুয়েতে মানব পাচার মামলায় ফেঁসে যেতে পারেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কালাম

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি

সিপ্লাস ডেস্ক: এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের মানব পাচার কেলেঙ্কারিতে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালামও ফেঁসে যেতে পারেন। কুয়েত সরকার তার বিরুদ্ধেও অভিযোগপত্র দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে গতকাল শুক্রবার এ কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবপাচার মামলায় শুধু এমপি পাপুলই জড়িত নয়। এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আসতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও এ ফৌজদারি অপরাধের মামলায় জড়িয়ে পড়তে পারেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন রাষ্ট্রদূত কালামের বিরুদ্ধে মানবপাচারে জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অপরাধ করলে কেউ পার পাবেন না। কুয়েতি কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে তাকে বাংলাদেশ সরকারও ছাড় দেবে না। মানবপাচারের বিরুদ্ধে সরকার শূন্য সহনশীলতা দেখাবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ দিকে রাষ্ট্রদূত কালামের মেয়াদ শেষ হবে। কুয়েতে নতুন রাষ্ট্রদূতও চূড়ান্ত করেছে সরকার। গত মাসের শুরুতে মানব ও মুদ্রাপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের এমপি পাপুলকে গ্রেপ্তার করে কুয়েতি কর্তৃপক্ষ। এরপর বাংলাদেশে এবং কুয়েতে তার দুর্নীতিসহ নানা অপকর্ম ফাঁস হতে থাকে।

২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল কুয়েতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান চট্টগ্রামের এই ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা এসএম আবুল কালাম। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির দায়িত্ব ছাড়াও ছিলেন অগ্রণী ব্যাংক এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পরিচালকও।

কুয়েতে বাংলাদেশের এমপি কাজী পাপুল গ্রেপ্তার হওয়ার কিছুদিন আগেও তার পক্ষে সাফাই গেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালাম। চিঠিতে তিনি বলেছেন, পাপুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘বানোয়াট’।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালাম লিখেছেন, ‘এমপি পাপুলকে মানব পাচারকারী উল্লেখ করে কুয়েতের গণমাধ্যমগুলোতে যে সংবাদ ছাপা হয়েছে— সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। এ ব্যাপারে কুয়েতের আরবি দৈনিক আল কাবাস পত্রিকার রিপোর্টারকে আমার দপ্তরে ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। সে বলেছে, লোকমুখে শুনে এসব সংবাদ তৈরি করা হয়েছে।’