সিপ্লাস প্রতিবেদক
কেমন আছেন নগরীর দামপাড়ার বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত মুজিবুল হক ও তার ছেলে জাহেদুল হক মামুন। প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে করোনা্ ভাইরাসের লক্ষণ দেখা যায় ষাটোর্ধ্ব মুজিবুল হকের শরীরে। এরপর তার ছেলে জাহেদুল হক মামুনের পরীক্ষা করা হলে তার শরীরেও করোনার লক্ষণ দেখা যায়। যার কারণে তারা এখন কেমন আছেন? কোথায় আছেন? তা জানার জন্য উদগ্রীব নগরবাসী।
জানা যায়, বর্তমানে মুজিবুল হক ও তার ছেলে জাহেদুল হক মামুন আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেসনে আছেন। গত শুক্রবার বাবার ও পরে ছেলের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়। তবে আইসোলেসনে থাকার পর তাদের শারীরিক অবস্থা এখন উন্নতির দিকে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বলেন, দামপাড়া এলাকার করোনা আক্রান্ত মুজিবুল হক ও তার ছেলের শরীরে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ আছে না কি না তা পরীক্ষা করার জন্য পুনরায় আজ মঙ্গলবার ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আগামী কাল বুধবার পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসবে। রিপোর্টে নেগেটিভ আসলে আবার এক সিপ্তাহ বা তিনদিন পর তাদের আবারো পরীক্ষা করা হবে। তখন যদি রিপোর্ট নেগেটিভ আসে তবেই তারা বাড়িতে যেতে পারবে। বাবা ছেলেকে প্রথম যখন পরীক্ষা করা হয় তখন পজেটিভ এসেছিল। বর্তমানে তারা আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেসনে আছেন। কোন ব্যক্তির শরীরে যদি করোনা ভাইরাস পজেটিভ আসে তখন তাকে তিন দিন বা এক সপ্তাহ পর আবার পরীক্ষা করা হয় ডাক্তারি পরামর্শ মতে। তাই আজ মঙ্গলবার আবার তাদের শারীরিক অবস্থা ও করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি কতটুকু সেটা জানার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
করোনা সন্দেহে আইসোলেসনে থাকা মুজিবুল হকের ছেলে জাহেদুল হক মামুনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পরীক্ষা করার জন্য আজ মঙ্গলবার আবার নমুনা নিয়ে গেছে কাল বুধবার রিপোর্ট আসবে। গত ২৪ মার্চ থেকে আমার কর্মস্থল বাস্কেট এ আমি যায়নি। তখন শারীরিক কোন সমস্যা ছিল না। আমার সাথে আজকে আমার বাবার করোনার নমুনা পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে গেছে। উনার রিপোর্টও কাল আসবে। আমার পরিবারের সকল সদস্যকে পরীক্ষা করা হয়েছে, রিপোর্টে তাদের নেগেটিভ এসেছে। এছাড়াও সোদি আরব থেকে আসা আমার বোনের নমুনা পরীক্ষা করার পর তার রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছে।
খুলশী অবস্থিত সুপারশপ ‘দি বাস্কেটের মালিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ২৪ মার্চ পর্যন্ত মামুন অফিস করেন। এরপর সে আর আসেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে ১৪ দিন সুপারশপ বাস্কেট বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই আপাতত আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছি।
গত ৩ এপ্রিল শুক্রবার মুজিবুল হকের শরীরে করোনা ভাইরাসের রিপোর্টে পজেটিভ আসার পর দামপাড়া এলাকার ৬ টি বাড়ি লক ডাউন করে প্রশাসন। পরে মুজিবুল হকের ছেলে জাহেদুল হক মামুনের শরীরেও করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পেলে তার কর্মস্থল নগরীর খুলশী অবস্থিত সুপারশপ ‘দি বাস্কেট’ও লকডাউন করে দেওয়া হয়। সেখানে কর্মরত ৭৪ জন কর্মীকে কোয়ারেনটাইনে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।








