নিউজটি শেয়ার করুন

কেরানীগঞ্জে দগ্ধ আরও তিনজনের মৃত্যু

শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন  অবস্থায় রোববার সকালে মোস্তাকিন (২২), আব্দুর রাজ্জাক (৪০) ও আবু সাঈদ (২৯)  মারা যান বলে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানান, মোস্তাকিমের শরীরের ২০ শতাংশ, রাজ্জাকের ৯৫ শতাংশ এবং সাঈদের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

গত ১১ ডিসেম্বর বিকালে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকায় প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ নিয়ে মোট ১৭ জনের মৃত্যু হল।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেদিনই কারখানার ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনের লাশ উদ্ধার করেন। বাকিরা পরে হাসপাতালে মারা যান।

সামন্ত লাল সেন জানান, কেরানীগঞ্জে দগ্ধ আরও ১৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে আটজন আছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। আর সোহাগ (১৯), মফিজ (৪৫), সুমন (২২), সিরাজুল (১৯), সোহাগ (২৫) ও ফিরোজকে (৩৯) শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের মৃতদেহ শুক্র ও শনিবার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে ঢাকার জেলা প্রশাসন। বাকিদের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

একতলা টিনশেড ওই কারখানায় ওয়ান টাইম প্লেট, কাপসহ প্লাস্টিকের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করা হত। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানা মালিক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত একজনের ভাই।

কলকারখানা প্রতিষ্ঠান ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক (ঢাকা) আহমেদ বেলাল জানিয়েছেন, প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ওই কারখানাটি ছিল অবৈধ।

“নব্বই দিনের মধ্যে কারখানার প্রবেশপথের সংখ্যা বাড়ানোর শর্তে তারা ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি নিয়েছিল, কিন্তু মালিকপক্ষ তা করেনি। ওই কারখানায় ঢোকা ও বের হওয়ার একটি মাত্র পথ।”

এ বছর কারখানাটি পরিদর্শনের পর গত ৫ নভেম্বর মালিকের বিরুদ্ধে নোটিস জারি করে মামলাও হয়েছিল বলে জানান তিনি।