সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেছে। এদিকে আগামী ৫ আগস্ট মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলরদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় মেয়রের পদে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি উঠে এসেছে। এ নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা চলছে নগরজুড়ে। আলোচিত হচ্ছে মেয়র পদে কে আসছেন। আমলা, রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক কোন ব্যক্তিত্ব। সবই এককভাবে নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর।
তারপরও এ ক্ষেত্রে আলোচিত হচ্ছে খোরশেদ আলম সুজন, এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুল ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চুর নাম। তাঁরা তিনজনই চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। উচ্চ পর্যায়ে তাঁদের ব্যাপারে দলীয় প্রস্তাবনা রয়েছে বলে জানা গেলেও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ ব্যাপারে মুখ খুলছেন না।
খোরশেদ আলম সুজনের মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনাদের মতো আমিও নানা জনের নাম শুনছি। এ ব্যাপারে নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
খোরশেদ আলম সুজন চট্টগ্রাম নগরীর কাট্টলী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর সব কিছু চট্টগ্রাম নগরকেই ঘিরে। এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুলের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় হলেও চট্টগ্রাম নগরীর নন্দন কানন এলাকায় তাঁদের স্থায়ী আবাস রয়েছে। আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চুর বাড়ি নোয়াখালী জেলায়।
গত ২৯ মার্চ চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিডিউল ঘোষিত হওয়ার পর মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যায়। এ অবস্থায় বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। বাংলাদেশেও এ প্রাণঘাতী ভাইরাস আঘাত হানতে শুরু করে। ফলে নির্বাচন কমিশন ২৯ মার্চের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে যে, করোনার প্রাদুর্ভাব এবং বর্ষা মৌসুমে অতি বৃষ্টি ও পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় এখন নির্বাচন করা সম্ভব নয়। এই বক্তব্য পাওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নির্বাচন করা সম্ভব না হলে স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ হবে।
এদিকে বর্তমান নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ যেহেতু আগামী ৫ আগস্ট শেষ হয়ে যাচ্ছে সেহেতু অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি উঠে এসেছে। কিন্তু দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ নগরীর মেয়র পদে প্রশাসক হিসেবে কাকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে সেটি নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা চলছে। কিন্তু সরকারী বিভিন্ন সূত্রে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান দেয়া হচ্ছে। চসিকের প্রশাসক পদে কাকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে তা নিয়ে কোরবানির আগেই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি পরিষদ গঠিত হবে। এ পরিষদ তাদের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কর্পোরেশনের কর্মকান্ড পরিচালনা করবে।








